বাইক চালানোর সময় দুর্ঘটনার জেরে বাদ গিয়েছিল হাতের আঙুল। কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালে আঙুলের কাটা অংশ এবং রোগীকে দ্রুত নিয়ে এসেছিলেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসক পরদিন সকালে অস্ত্রোপচার করে কাটা আঙুল জুড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে হারিয়েই গেল বাদ যাওয়া আঙুলের অংশ। যার খেসারত দিয়ে চিরতরে হাতের একটি আঙুলের একাংশ হারালেন হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা নীলোৎপল চক্রবর্তী। 

আরও পড়ুন- বাংলায় পাঁচটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, মমতার কৃতিত্বে ভাগ বসিয়ে ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

গত বুধবার রাতে শিবপুরে বাইক চালানোর সময় অতর্কতায় নীলোৎপলবাবুর বাঁ হাতের অনামিকার উপরের দিকের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কাটা ওই আঙুলের অংশ-সহ দ্রুত নীলোৎপলবাবুকে একবালপুরের সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্যরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসককে অনুরোধ করেন নীলোৎপলবাবুর স্ত্রী চয়নিকাদেবী। তাঁর অভিযোগ, অনুপম কোলাজ নামে ওই চিকিৎসক তাঁকে জানান, দিনভর একাধিক অস্ত্রোপচার করে তিনি ক্লান্ত। বৃহস্পতিবার সকাল ন'টায় অস্ত্রোপচার করে বাদ আঙুল জুড়ে দেবেন তিনি। ফ্রিজে বাদ যাওয়া আঙুল সংরক্ষণ করলে তা জুড়তে কোনও অসুবিধা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন চিকিৎসক। 

 

 

নিশ্চিন্ত মনে তখন বাড়ি গেলেও বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে এসে চমকে যান রোগীর পরিবারের সদস্যরা। অস্ত্রোপচার শুরু করতে কেন দেরি হচ্ছে, তা জানতে চাইতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন, নীলোৎপলবাবুর আঙুলের বাদ যাওয়া অংশ খুঁজে পাওয়া  যাচ্ছে না। এমন কী, হাসপাতালের ডাস্টবিনেও কাটা আঙুল খোঁজাখুজি শুরু করেন বলে দাবি চয়নিকাদেবীর। শেষ পর্যন্ত আলিপুর থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেন নীলোৎপলবাবুর স্ত্রী। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনেও তাঁদের অভিযোগ জানানোর কথা। 

আরও পড়ুন- রক্ষকই ভক্ষক, মদ্যপ পুলিশকর্মীদের মারে মাথা ফাটল রায়গঞ্জের চিকিৎসকের

আঙুল হারিয়ে যাওয়ার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্য কথা বলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এখন দাবি, নীলোৎপলবাবুর বাদ যাওয়া আঙুল কোনওভাবেই জোড়া যেত না। আঙুল জোড়া না গেলে কেন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা বললেন, সে প্রশ্ন উঠছে। তবে কীভাবে আঙুল হারিয়ে গেল, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে হাসপাতালের তরফে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও।