এ বছরেও সোনার গয়নায় সাজবেন মা। মাথার মুকুট থেকে পায়ের পাঁয়জোর— সবই খাঁটি সোনায় বানানো। ভক্তদের মানত করা গয়নাও থাকবে।

সারা বছর কালীপুজোয় দেবী ভবতারিণীকে কাছ থেকে দেখা এবং পুজো দেওয়ার জন্য যাঁরা উন্মুখ তাঁদের জন্য সুখবর। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পক্ষ থেকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গত দু’বছর করোনা কারণে বন্ধ ছিল মন্দির প্রাঙ্গন। এ বছর ভক্তদের জন্য আবার আগের মতোই খুলে যাবে ভবতারিণী মন্দিরের দরজা। চলতি বছরে কালীপুজো ২৪ অক্টোবর, সোমবার। এ দিন ভোর ৫টা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে গিয়েছে মন্দির। সারা রাত ধরে চলবে পুজো নেওয়া। আবারও মন্দির প্রাঙ্গনে বসেই কালী মায়ের পুজো দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। চাইলে ভক্তরা পুজো দেওয়ার পরে নাটমন্দির চত্বরে বসতেও পারবেন। মন্দির চত্বরে লাগানো বড় পর্দায় দেখতে পারবেন মায়ের আরতি, যজ্ঞ, হোম। যদিও করোনা একেবারে নির্মূল না হওয়ায় এ বছরেও হাতে হাতে প্রসাদ বিতরণ বন্ধ করা হবে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোমনাথ শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের বংশধর, জনপ্রিয় শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী। সেই সূত্রে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুজো ১৬৮ তম বছরে পা রাখতে চলেছে। রীতি মেনে প্রতি বছরের মতো এ বছরেও সোনার গয়নায় সেজে উঠবেন মা। মাথার মুকুট থেকে পায়ের পাঁয়জোর— সবই খাঁটি সোনা দিয়ে বানানো। এ ছাড়া, ভক্তদের মানত করা গয়নাও থাকবে। থাকবে ফুলের গয়নাও। মায়ের গায়ে থাকবে বেনারসি। ঘরোয়া ভঙ্গিতে পরানো হবে সেই শাড়ি। পঞ্জিকা মতে, এ বছর বিকেল পাঁচটা নাগাদ অমাবস্যা পড়বে। থাকবে মঙ্গলবার বিকেল ৪টে ২৬ মিনিট পর্যন্ত। দক্ষিণেশ্বরে সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হবে দেবী ভবতারিণীর পুজো। চার প্রহরে ষোড়শোপচারে আরাধনা হবে তাঁর। অন্ন, পাঁচ রকম মাছ, পাঁচ রকম ভাজা, ঘি-ভাত, পাঁচ রকম মিষ্টি ও দই নিবেদন হবে মায়ের ভোগে। ভোরের মঙ্গলারতি দিয়ে পুজো শুরু হবে। তার পরে হবে নিত্য পুজো।

আরও খবর, মন্দিরের পাশাপাশি এ দিন খোলা থাকবে চত্বরের আশপাশের দোকানও। দর্শনার্থীরা যাতে পুজো উপকরণ কিনতে পারেন সেই কারণেই এই বিশেষ বন্দোবস্ত। খোলা থাকবে খাবারের দোকানগুলোও। যাতে পুজোর পর কেউ অভুক্ত না থাকেন। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে পুরো এলাকা, মন্দির চত্বর। নজরদারি রাখা হবে সিসিটিভি দিয়েও। প্রতি বছরের মতো এ বছরেও দক্ষিণেশ্বরের নাট মন্দির-সহ পুরো চত্বর ঝলমলে রকমারি আলোর মালায়।

আরও পড়ুননগ্নরূপেই কেন মা কালী পূজিত হন, জেনে নিন এর আসল কারণ

আরও পড়ুন-দীপাবলিতে বাড়িতে এই জায়গায় রাখুন সৌভাগ্যের মূর্তি, দুর্ভাগ্য দূর হয়ে হবে টাকার বৃষ্টি

আরও পড়ুনমহাভারত যুদ্ধের আগে কার্তিক মাস এমনই ২টি গ্রহণের যোগের সৃষ্টি হয়েছিল, দুর্ঘটনার আশঙ্কা