পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হায়দরাবাদে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার চার অভিযুক্ত। শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  শুক্রবার ভোররাতে অভিযুক্তদের নিয়ে সেই ঘটনারই পুনর্নির্মাণ করছিল পুলিশ। সেই সময়ই ওই চার অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের মৃত্যু হয় হায়দরাবাদে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের। এই ঘটনায় শহর কলকাতার শিক্ষার্থীরা জানালেন তাদের ব্য়ক্তিগত মতামত আমাদের সংবাদমাধ্য়মের কাছে। তাঁরা কী বলছে জেনে নেওয়া যাক- 

আরও পড়ুন, ধিক্কৃত থেকে রাতারাতি হিরো, মুখ রাখতে কি ভুল লোককে ধরে মারল পুলিশ, উঠল গুরুতর প্রশ্ন

 

 

সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী নৌরিন ফাজাল জানালেন, আমি মনে করি এটা অত্য়ন্ত ভাল সিদ্ধান্ত। কিছু মানুষের বক্তব্য় আইনি বিচার ব্য়বস্থার মধ্য় দিয়ে গেলে একটা সঠিক সমাধান পাওয়া যেত। কিন্তু আমি মনে করি এই মুহূর্তে আর সেই পরিস্থিতি নেই। তাই এখন বসে বসে শিক্ষিত হওয়ার সময় নয়। তাদেরকে ভয় দেখানোর প্রকৃষ্ট সময় এটা।

 

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের ছাত্রী উৎসা পাল জানালেন, ভারতীয় আইন ব্য়বস্থা ধর্ষকদের জন্য় শক্তিশালী নয়। এক্ষেত্রে দোষীরা বিচার পেতে পেতে এত সময় লাগে যে ,নির্যাতিতা মানুষিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমি মনে করি, অপরাধ প্রবনতা কমানোর জন্য়  দেশের আইনকানুন আরও কড়া হওয়া উচিত। যাতে তারাও ,নির্যাতিতার মতই মানুষিকভাবে ততটাই ভেঙে পড়ে এবং যেকেউ অপরাধ করার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য় হয়।

আরও পড়ুন, চেয়েছিলেন গণপিটুনি, হল এনকাউন্টার, কী বলছেন জয়া বচ্চন

 

 


যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের সাংবাদিকতার ছাত্রী রিয়াঙ্কা ঘোষ জানালেন,ব্য়ক্তিগতভাবে একটি হালকা লাগছে যে, ধর্ষকেরা আর বেঁচে নেই। কারণ আমাদের দেশে বছরের পর বছর জেলে রেখে, তার উপর ট্রায়ালের পর ট্রায়াল চলতেই থাকে। আর নির্ভয়া, আসিফা, প্রিয়াঙ্কার মত নির্যাতিতারা কোনও দিন বিচার পায়না। কারন এত দেরীতে সেই বিচার প্রক্রিয়া চলে, যে কিছুই আর বলার থাকেনা। আমাদের দেশের আইনকানুন যতদিন না শক্ত হবে, ততদিন ধর্ষন ও খুন করার ঘটনা কমার কোনও আশা দেখতে পাচ্ছিনা।

 

 


প্রেসিডেন্সি ইউনিভারসিটির ভূগোল বিভাগের ছাত্র শুভজ্য়োতি দত্ত চৌধুরি জানালেন,  আমি মনে করি যেটা হয়েছে সেটা এখনকার মতো সমর্থন করাই যায়। কিন্তু একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে কয়েকটা প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমি আশা করব আজকের ঘটনাটা পরবর্তী ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইন সংশোধনের জন্য যে দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে তাকে শেষ করার জন্য ক্ষণিকের চমক হিসাবে না থেকে যায়। এবং এরপরেও যেন যত শীঘ্র সম্ভব আইন সংশোধনের প্রচেষ্টা করা হয়। যদিও দুষ্কৃতীদের মৃত্যুর জন্য আমার কোনো খেদ নেই কিন্তু মানুষজন, অন্য মেয়েরা এই শয়তান গুলোকে মাত্র কয়েকটা গুলির আঘাতে মরতে দেখতে চায়নি। তারা এদেরকে একই যন্ত্রণা ভোগ করতে দেখতে চেয়েছিল, হয়তো কিছুটা বেশিই যন্ত্রণা।