ধুলোবালি ও মাটির কারণে যদি আপনার শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝবেন আপনি ডাস্ট অ্যালার্জির শিকার। শুধু অ্যালার্জিতে ভুগছেন এমন লোকেরা সামান্য ধুলাবালি নিয়ে সমস্যায় পড়তে শুরু করে। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণেও হাঁপানি এবং একজিমা হতে পারে।

নবরাত্রি বা দুর্গাপুজো নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। নিজেকে সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি, ঘরদোর নতুন করে সাজিয়ে তুলতে এই সময় সবাই চান। আনন্দ ও আলোর এই উৎসবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাধ্যতামূলক। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় পরিষ্কার করতে গিয়ে ধুলো-মাটি ইত্যাদির কারণে কেউ কেউ সমস্যায় পড়েন। যাদের ধুলোর সমস্যা আছে তারা ডাস্ট এলার্জি প্রবণ। এই ধরনের মানুষ সামান্য ধুলোবালি এবং মাটি থেকে হাঁচি শুরু করে, যা পরবর্তীতে জ্বর বা চুলকানির মতো সমস্যায় পরিণত হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নিই ডাস্ট অ্যালার্জির লক্ষণ এবং তা থেকে বাঁচার উপায়-

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ডাস্ট এলার্জি কি?

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ডাস্ট এলার্জি কি? আসলে, ধুলোবালি ও মাটির কারণে যদি আপনার শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝবেন আপনি ডাস্ট অ্যালার্জির শিকার। শুধু অ্যালার্জিতে ভুগছেন এমন লোকেরা সামান্য ধুলাবালি নিয়ে সমস্যায় পড়তে শুরু করে। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণেও হাঁপানি এবং একজিমা হতে পারে।

ডাস্ট অ্যালার্জির লক্ষণ

  • অনবরত হাঁচি হতে থাকে ডাস্ট অ্যালার্জির হলে। তাছাড়া, নাক থেকে জল পড়া, চোখ চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে। 
  • নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক, মুখ, গলা চুলকানি হতে পারে এই অ্যালার্জির জন্য। মুখের ভেতর চুলকানিও হয় ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে। 
  • খুশখুশে কাশি হতে পারে ডাস্ট অ্যালার্জি হলে। এমনকী, এই অ্যালার্জি থেকে চোখের নীচে ফোলা ভাব থেকে। তাই এই সকল লক্ষণ দেখলে সতর্ক হন। অ্যালার্জি কী থেকে হচ্ছে তা নির্ণয় করুন। সঙ্গে অ্যালার্জি প্রতিরোধের চেষ্টা করুন।

ডাস্ট অ্যালার্জির প্রতিকার 

  • ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে কয়টি নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। প্রথমত ঘর থেকে বের হলে মাস্ক পরুন। ধুলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। 
  • অনেক সময় আসবাবে জমে থাকা ধুলো থেকে ডাস্ট অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ফার্নিচারে ধুলো জমতে দেবেন না। নিয়মিত ফার্নিচার পরিষ্কার করুন। নিজে ধুলো ঘাঁটবেন না। এতে সমস্যা বাড়বে। 
  • খাটে জমে থাকা ধুলো থেকে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর ও ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানা ঝেরে নিন। এই সময় মুখ ঢেকে রাখবেন। তা না হলে, খাটে জমে থাকা নোংরা লেগে বাড়তে পারে অ্যালার্জির সমস্যা। ছাড়া, মাঝে মধ্যে বিছানা রোদে দিন। এতে ধুলো জমবে না। 
  • যাদের ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা শোওয়ার ঘর সাজাতে বিশেষ গুরুত্ব দিন। শোওয়ার ঘরে বইয়ের তাক কিংবা খবরের কাগজ জমিয়ে রাখবেন না। এতে সহজে ধুলো জমে যায়। এই ধুলো থেকে দেখা দেয় অ্যালার্জির সমস্যা। 
  • এই সময় ঘরে কার্পেট না রাখাই ভালো। কার্পেটে সহজে ধুলো জমে যায়। সেই ধুলো পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। একান্ত কার্পেট রাখলে তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। 

ধুলোর অ্যালার্জি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বেডরুম থেকে কালো এবং সাদা পর্দা সরিয়ে ফেলুন। এছাড়াও, পোষা প্রাণীকে বেডরুমের বাইরে এবং সম্ভব হলে বাড়ির বাইরে রাখুন। একই, গদি এবং বালিশে "মাইট-প্রুফ" আইটেম ব্যবহার করুন। সবচেয়ে বড় কথা, পরিষ্কার করার সময় মাস্ক পরুন।