আয়রনের ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া একটি সাধারণ সমস্যা, যা শরীরে বিভিন্ন লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। স্থায়ী ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ত্বক, শ্বাসকষ্ট, ভঙ্গুর নখ এবং ক্ষত দেরিতে শুকানো এর মধ্যে অন্যতম প্রধান উপসর্গ, যা হিমোগ্লোবিনের অভাবের কারণে ঘটে।
আজকাল বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই আয়রনের ঘাটতি দেখা যায়। আয়রন মানবদেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে এটি অপরিহার্য। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্যও আয়রন জরুরি। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, সেগুলি নিচে আলোচনা করা হল।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও স্থায়ী ক্লান্তি অ্যানিমিয়ার অন্যতম সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ। রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকলে মস্তিষ্ক ও পেশি সতেজ থাকতে পারে না, যা ক্রমাগত ক্লান্তির কারণ হয়। অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অসুবিধা বোধ করতে পারেন।
- ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে মুখ, হাতের তালু বা চোখের ভেতরের পাতা। অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনের অভাবে এটি ঘটে। ফর্সা ত্বকের লোকেদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
- শ্বাসকষ্ট অ্যানিমিয়ার আরেকটি লক্ষণ। এটি সাধারণত ব্যায়াম করার সময় বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় ঘটে। এটিকে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ফ্যাকাশে ঠোঁট বা চোখের পাতার ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া আয়রনের ঘাটতির দুটি প্রাথমিক এবং স্পষ্ট লক্ষণ। স্বাস্থ্যকর ঠোঁটের রঙ সাধারণত হালকা গোলাপী হয়।
- দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটিও আয়রনের ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে।
- নখের মধ্যেও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যত্ন নেওয়ার পরেও যদি নখ ভেঙে যায় বা না বাড়ে, তবে এটি আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। কখনও কখনও, নখ চামচের মতো ভেতরের দিকে বেঁকে যেতে পারে।
- আয়রনের ঘাটতি থাকলে ক্ষত সারতে অনেক বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ, ছোটখাটো কাটা বা ব্রণের দাগ মিলিয়ে যেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেয়।


