হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে সকালবেলা। ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা হার্টের রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোন কোন ভুল করলে চলবে না?
হার্টের অসুখ থাকলে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু ভুলের কারণে ঝুঁকি বাড়ে। যেমন—হঠাৎ করে জোরে উঠে পড়া (যা রক্তচাপ ও হার্টবিট বাড়ায়), বাম দিকে ফিরে শোয়া (যা শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে) অথবা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা উপেক্ষা করা। বিশেষত সকালের দিকে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি থাকায় এই সময়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডান দিকে ফিরে শোয়া, ধীরে ধীরে ওঠা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি, অন্যথায় মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সঞ্জয় ভোজরাজ সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োয় বলেন, ‘‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং হৃদ্রোগের কারণে মৃত্যুও এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে গবেষণায়। সকালে উঠেই কফিতে চুমুক, জল না খাওয়া, ওষুধ না খাওয়া এবং কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া— এই সব অভ্যাস কিন্তু হার্টের পক্ষে মোটেও ভাল নয়। হৃদ্রোগ এড়াতে চাইলে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে খালি পেটে জল খান বেশি করে, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিন। প্রোটিনে ভরপুর প্রাতরাশ করুন, তার পর চা-কফি খান। সকালে উঠে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। এ ভাবে সকালটা শুরু করলে হার্ট ভাল থাকবে।’’
ঘুম থেকে ওঠার পর যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:
১. হঠাৎ করে উঠে পড়া: হার্টের রোগী বা যাদের ঝুঁকি আছে, তারা ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়ালে হঠাৎ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
২. বাম দিকে ফিরে শোয়া: হার্টের সমস্যা থাকলে বাম দিকে ফিরে শোয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এর পরিবর্তে ডান দিকে ফিরে শোয়া ভালো।
৩. স্লিপ অ্যাপনিয়া উপেক্ষা: ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থাকলে তা হার্টের ওপর চাপ বাড়ায়, যা সকালের দিকে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
৪. চা, কফি বা অ্যালকোহল: সন্ধ্যায় বা রাতে চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং হার্টের ঝুঁকি বাড়ে।
কেন সকালের দিকে ঝুঁকি বেশি?
* রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা: সকালে রক্ত বেশি ঘন (viscous) থাকে এবং প্লেটলেটগুলো বেশি আঠালো (sticky) হয়, ফলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে।
* কর্টিসল ও PA1: সকালে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে এবং PA1 নামক প্রোটিনও বাড়ে, যা রক্ত জমাট বাঁধাকে প্রতিরোধে বাধা দেয়। এই কারণে সকালের দিকে হার্ট অ্যাটাক বেশি হয় (সাধারণত ভোর ৪টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে)।
কি কি করণীয়:
* ধীরে ধীরে উঠুন: ঘুম ভাঙলে কয়েক মিনিট বিছানায় বসে থাকুন, তারপর ধীরে ধীরে উঠুন।
* ডান দিকে ফিরে শোয়া: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডান দিকে ফিরে শোয়ার অভ্যাস করুন।
* স্বাস্থ্যকর অভ্যাস: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।
* চিকিৎসকের পরামর্শ: স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্যান্য ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জরুরি অবস্থায়: বুকে ব্যথা, ঘাম, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা (যেমন ৯৯৯) কল করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।


