ওয়াক্সিং করতে দারুণ কাজে দেবে ফিটকিরি! আর কত উপকারী গুণাগুণ রয়েছে জানেন?

ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার আগে, বিয়েবাড়ির মরশুমে সাজগোজের সাথে একটু ওয়াক্স করতেই হয়। পন্থা বদলে বাধ্য হয়ে হট ওয়াক্স বা ওয়াক্স স্ট্রিপস ব্যবহার করতেই হয়। এতে ব্যাথা তো আছেই সাথে আরেক ঝুঁকি হলো ত্বক পুড়ে যাওয়া। ঘন ঘন বেশি দিন ধরে এই ওয়াক্স করতে থাকলে ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। আর পার্লারে যাওয়া মানেই অনেক টাকার খরচা। এতো ঝুঁকি আর সমস্যা জেনেই উপায় না থাকায় এই পথেই চলতে হয়। তবে উপায়? পার্লারের দিদিরা বলছে ফিটকারি মেটাবে যন্ত্রণা। মুখ অথবা শরীরের অবাঞ্ছিত রোম পরিষ্কারে ব্যবহার করুন ফিটকারি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফিটকারির বৈশিষ্ট্য :

ফিটকারি সাধারণত বর্ণহীন, গন্ধহীন হয়। সহজেই জলে দ্রবীভূত হয়, বিশেষ করে গরম জলে। এর গলনাঙ্ক প্রায় ৯২. ৫° এবং স্ফুটনাঙ্ক প্রায় ২০০° সি। ফিটকারির একটি মিষ্টি ক্ষিপ্র স্বাদ থাকে এবং লিটমাস পেপারের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। জলে দ্রবীভূত হলে এটি তাদের অম্লীয় প্রকৃতি নির্দেশ করে।

রোম তুলতে কীভাবে ব্যবহার করবেন ফিটকারি ?

১. ছোট একটি পাত্রে ফিটকিরির সাথে সমপরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে এমনভাবে যাতে মিশ্রণটি খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয়ে যায়। এ বার গায়ের যে অংশের রোম তুলবেন, সেখানে মেখে রাখতে হবে মিনিট। শুকিয়ে ভিজে তোয়ালে বা সুতির কাপড় দিয়ে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। রোম উঠে একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে ত্বক। পরে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। শুষ্ক বা স্পর্শকাতর ত্বকের ক্ষেত্রে ফিটকারি গুঁড়ো করে তার সাথে মধু মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একইভবে পনেরো - কুড়ি মিনিট মুখে মেখে রেখে শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। অস্বস্তিভাব হলে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এবার ত্বকের ধরন বুঝে ওয়েলি বা জেল বেস ময়েশ্চারাইজার মেখে নিতে হবে।

২. একটি পাত্রে ১ টেবিল চামচ ফিটকারি গুঁড়ো ও আধ চা চামচ গুঁড়ো হলুদ মিশিয়ে জল দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। আবারও মুখের যে অংশের রোম তুলতে চান সেখানে মেখে, পনেরো - কুড়ি মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ভিজে তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ঘষে তুলে ফেলে দেখবেন রোম একেবারে উঠে গেছে।

অন্যান্য উপকারিতা :

১। ব্রণ চিকিতৎসা: ফিটকারির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যর কারণে ত্বকের ব্রণ এবং কালো ছোপ দূর করে।

২। ত্বক উজ্জ্বল করে: ফিটকারির ব্যবহার আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে পারে। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং কালো দাগ বা পিগমেন্টেশন হ্রাস করে।

৩। প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট: শরীরে ঘাম বা ময়লার কারণে হওয়া ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। ফলে শরীরের দুর্গন্ধ হয় না।

৪। সানবার্ন উপশমে সাহায্যকারী : ফিটকারি ব্যবহার করে রোদে পোড়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ফিটকারি পাউডার থেকে তৈরি পেস্ট রোদে পোড়ার থেকে আরাম দেয় ও লালভাব দূর করতে পারে।