Fashion Tips: গরমে ঘাম হবেই, কিন্তু সবার ঘামে গন্ধ হয় না। অনেকে দিনে দুবার স্নান করেও, দামি ডিও মেখেও গায়ের বোঁটকা গন্ধ ঢাকতে পারেন না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাম নিজে গন্ধহীন। গন্ধটা তৈরি করে আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া। আর সেই ব্যাকটেরিয়াদের ‘পার্টি’ দেয় দুজন, এক মানসিক চাপ আর দুই ভুল খাদ্যাভ্যাস।
Fashion Tips: বাসে-ট্রামে বা অফিসের AC রুমে পাশের লোকটা হাত তুললেই নাকে আসে সেই চেনা বোঁটকা গন্ধ। লজ্জায় নিজের দিকে তাকান, পারফিউম তো মেখেছেন! তাহলে গন্ধটা কেন যাচ্ছে না? এই সমস্যায় ভোগেন লাখ লাখ মানুষ। আমরা ভাবি ঘাম মানেই গন্ধ, আর গন্ধ মানেই অপরিষ্কার। ধারণাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। AIIMS-এর ডার্মাটোলজি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডা. সুমিত সেন বলছেন, “ঘাম মূলত জল আর নুন। এর নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। আমাদের ত্বকে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে। ঘাম যখন বেরোয়, এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ঘামের মধ্যে থাকা প্রোটিন আর ফ্যাট ভেঙে ফেলে। সেই ভাঙনের ফলেই তৈরি হয় বাটিরিক অ্যাসিডের মতো যৌগ, যার গন্ধই আমাদের নাকে লাগে।”

এবার প্রশ্ন, সবার গায়ে তো ব্যাকটেরিয়া আছে, তাহলে গন্ধ সবার হয় না কেন?
এর প্রথম কারণ মানসিক চাপ। আমাদের শরীরে দুই ধরনের ঘামের গ্রন্থি আছে, এক্রাইন আর অ্যাপোক্রাইন। গরম লাগলে যে পাতলা ঘাম হয় সারা শরীরে, সেটা এক্রাইন গ্রন্থি থেকে আসে, তাতে গন্ধ প্রায় নেই। কিন্তু ভয় পেলে, টেনশন করলে, প্রেজেন্টেশনের আগে বা ঝগড়ার সময় বগল আর কুঁচকিতে যে চটচটে ঘাম হয়, সেটা আসে অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থি থেকে। এই ঘামে প্রোটিন আর ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি। ব্যাকটেরিয়া এই ঘাম পেলে মহানন্দে ভোজ শুরু করে, আর তাতেই বিকট গন্ধ ছাড়ে। তাই পরীক্ষার হল বা ইন্টারভিউ রুমে AC চললেও অনেকের বগল ভিজে গন্ধ বেরোয়। একে বলে ‘স্ট্রেস সোয়েট’।
দ্বিতীয় আর সবচেয়ে বড় কারণ খাদ্যাভ্যাস। আপনি কী খাচ্ছেন, তার ছাপ পড়ে আপনার ঘামে। পেঁয়াজ, রসুন, হিং-এ সালফার থাকে। ব্রকোলি, বাঁধাকপিতে অন্য যৌগ থাকে। রেড মিট হজম হতে সময় নেয়। এই সব খাবার মেটাবলিজমের পর এমন কিছু উদ্বায়ী যৌগ তৈরি করে যা ঘাম, নিঃশ্বাস এমনকি ইউরিন দিয়েও বেরোয়। অতিরিক্ত ঝাল-মশলা, ফাস্ট ফুড, অ্যালকোহল আর ক্যাফেইনও ঘামের গন্ধ বাড়ায়। আবার যারা জল কম খান, তাদের ঘাম ঘন হয়, ফলে গন্ধের তীব্রতাও বাড়ে। ডা. সেনের মতে, “সপ্তাহে ৩ দিন মাংস আর রোজ রসুন-পেঁয়াজ খেলে ডিও মেখে লাভ নেই। গন্ধটা ভিতর থেকে আসছে।”
তাহলে সমাধান কী? প্রথমেই নজর দিন ডায়েটে। পেঁয়াজ-রসুনের পরিমাণ কমান। রেড মিটের বদলে মাছ বা চিকেন খান। পাতে রাখুন টক দই, লেবু, পুদিনা পাতা, আমলকি। এগুলো শরীরকে ভিতর থেকে ডিটক্স করে, গন্ধ কমায়। মেথি ভেজানো জল খেলেও উপকার পাবেন। আর দিনে অন্তত ৩ লিটার জল খেতেই হবে। জল খেলে ঘাম পাতলা হবে, টক্সিন বেরিয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, স্ট্রেস ম্যানেজ করুন। যোগা, মেডিটেশন, প্রাণায়াম বা ৩০ মিনিট হাঁটা, স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায়। কর্টিসল কমলে অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থির অতিরিক্ত কাজ করাও কমে। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমও জরুরি। ঘুম কম হলে স্ট্রেস বাড়ে, আর স্ট্রেস বাড়লে ঘামে গন্ধ বাড়ে, এটা একটা সাইকেল।
তৃতীয়ত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। দিনে দুবার স্নান করুন, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। বগলের লোম ট্রিম করুন, কারণ লোমে ঘাম আর ব্যাকটেরিয়া আটকে থেকে গন্ধ বাড়ায়। সুতির ঢিলেঢালা জামা পরুন, সিন্থেটিক জামা ঘাম শোষে না, গন্ধ আটকে রাখে। জামা রোজ কাচুন। ডিও-র বদলে অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট রাতে শোবার আগে লাগান। এটা ঘামের গ্রন্থির মুখ সাময়িক বন্ধ করে দেয়, ফলে ঘাম কম হয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন? যদি হঠাৎ করে ঘামের গন্ধ খুব বেড়ে যায়, বা মিষ্টি, ফলের মতো বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ আসে, তাহলে ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আবার যদি ঘাম ছাড়াই শুধু গন্ধ হয়, বা একটা বগলে বেশি গন্ধ হয়, তাহলে ব্রোমহাইড্রোসিস বা হাইপারহাইড্রোসিস হতে পারে। এর জন্য বোটক্স ইনজেকশন থেকে শুরু করে আয়নটোফোরেসিস থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা আছে।
সুতরাং, গায়ের গন্ধ কোনো লজ্জার বিষয় নয়, এটা শরীরের একটা সিগন্যাল। শুধু বাইরে থেকে পারফিউম স্প্রে না করে, ভিতরের কারণটা খুঁজুন। স্ট্রেস কমান, প্লেটের দিকে নজর দিন আর জল খান। দেখবেন, দামি ডিও ছাড়াই আপনি ফ্রেশ থাকবেন সারাদিন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


