জায়গা বাঁচাতে আমরা অনেকেই সিঁড়ির নীচে বাথরুম বা স্টোর বানাই। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র বলছে এটা করলে বাড়িতে আর্থিক সমস্যা, অসুস্থতা আর মানসিক অশান্তি লেগে থাকে। কেন হয় আর রেমেডি কী আছে জানুন।
ফ্ল্যাট ছোট, জায়গা কম। তাই সিঁড়ির তলার ফাঁকা জায়গাটাকে কাজে লাগাতে আমরা সেখানে বাথরুম, স্টোররুম বা সিঙ্ক বানিয়ে দিই। দেখতে প্র্যাকটিক্যাল লাগলেও বাস্তু মতে এটা বাড়ির জন্য সবচেয়ে খারাপ জায়গাগুলোর মধ্যে একটা।
বাস্তুশাস্ত্র বলে সিঁড়ির নীচের জায়গা হল চাপ আর নেগেটিভ এনার্জির জায়গা। আর বাথরুম হল বর্জ্য` আর জলের` জায়গা। এই দুটো নেগেটিভ জিনিস যখন একসাথে হয়, তখন বাড়ির পজিটিভ এনার্জি ব্লক হয়ে যায়।
তাহলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
বাস্তুবিদরা বলছেন সিঁড়ির নীচে বাথরুম থাকলে বাড়ির লোকেরা এই ৩টে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন।
১. টাকা আটকে যাওয়া আর লোন: সিঁড়ির নীচে বাথরুম থাকলে বাড়ির অর্থ আসা বন্ধ হয়ে যায়। ইনকাম আসলেও হাতে থাকে না। অকারণে খরচ আর লোন বাড়তে থাকে। কারণ বাস্তুতে টয়লেট মানে সবকিছু ফ্লাশ হয়ে বেরিয়ে যাওয়া।
২. স্বাস্থ্যের অবনতি: এই ধরনের বাথরুমে আলো-হাওয়া থাকে না। সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে আর অন্ধকার থাকে। ফলে ফাঙ্গাস, চামড়ার রোগ আর শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে। বাস্তু মতে এখানে থাকা নেগেটিভ এনার্জি বাড়ির লোকের মানসিক শান্তিও নষ্ট করে।
৩. সম্পর্কে অশান্তি আর উন্নতিতে বাধা: সিঁড়ি মানে উপরে ওঠা। আর সিঁড়ির নীচে বাথরুম থাকলে তার মানে হল আপনার উন্নতির রাস্তার নীচেই নোংরা। এর ফলে ক্যারিয়ারে প্রমোশন আটকায়, ব্যবসায় লোকসান হয় আর বাড়ির লোকের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকে।
তাহলে এখন কী করবেন? ভেঙে ফেলতে হবে?
আতঙ্কিত হবেন না। ফ্ল্যাটে জায়গা না থাকলে বাথরুম সরানো সম্ভব না। সেক্ষেত্রে বাস্তুর কয়েকটা রেমেডি করে নেগেটিভ এনার্জি কমানো যায়।
সিঁড়ির নীচের বাথরুমের জন্য ৪টে জরুরি রেমেডি:
১. দরজা আর আলো: বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখুন। ভেতরে একটা উজ্জ্বল হলুদ বা সাদা বাল্ব জ্বালিয়ে রাখুন। অন্ধকার একদম রাখবেন না। এক্সজস্ট ফ্যান ২৪ ঘণ্টা চালান যাতে আদ্রতা না জমে।
২. রং আর আয়না: বাথরুমের ভেতরের দেওয়াল হালকা রং করুন। সাদা, হালকা নীল বা সবুজ বেস্ট। আর বাথরুমের বাইরে সিঁড়ির দেওয়ালে একটা বড় গোল আয়না লাগান। বাস্তু মতে আয়না নেগেটিভ এনার্জি রিফ্লেক্ট করে দেয়।
৩. নুন আর গাছ: সপ্তাহে একবার এক বাটি সৈন্ধব নুন বাথরুমের এক কোণে রেখে দিন। ৭ দিন পর সেটা ফ্লাশ করে দিন। নুন নেগেটিভিটি শুষে নেয়। আর বাথরুমের বাইরে সিঁড়ির পাশে একটা মানি প্ল্যান্ট বা লাকি ব্যাম্বু রাখুন।
৪. ভারী জিনিস রাখবেন না: সিঁড়ির নীচের বাকি ফাঁকা জায়গায় জুতো, ঝাঁটা বা ভাঙা জিনিস একদম রাখবেন না। পারলে সেখানে ছোট একটা মন্দির বা পজিটিভ ছবি লাগান।
বাস্তু মানে অন্ধবিশ্বাস না। এটা হল এনার্জি আর স্পেস ম্যানেজমেন্টের সায়েন্স। সিঁড়ির নীচে বাথরুম থাকলে আপনি রোজ যে নেগেটিভ এনার্জির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছেন সেটা আপনার অবচেতন মনকে প্রভাবিত করে।
