Eye Care: বায়োনিক আই হল চোখে বসানো ছোট্ট চিপ, যা রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত দৃষ্টিহীনদের অস্পষ্ট আলো-আকার দেখতে সাহায্য করে। পুরো দৃষ্টি ফেরে না, তবে চলাফেরা সহজ হয়। খরচ বেশি আর সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উন্নত হলে দৃষ্টি ফেরার আশা বাড়বে।
Eye Health: অন্ধত্বের চিকিৎসা আর কঠিন নয়। দৃষ্টিহীনের দৃষ্টি ফেরাতে নতুন আবিষ্কার ‘বায়োনিক আই’। বিশ্ব জুড়ে গবেষণা চলছে। দাবি, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ঝক্কি কমাতে পারে একটি ছোট্ট চিপই। আর তাতেই ফিরবে দৃষ্টি। দৃষ্টিহীনের চোখে আলো ফেরানোর স্বপ্ন এখন বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে ‘বায়োনিক আই’ বা রেটিনাল ইমপ্ল্যান্টের হাত ধরে। এটা আসলে চোখে বসানো ছোট্ট একটা মাইক্রো চিপ। রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা আর ছবি মস্তিষ্কে পাঠাতে পারে না। বায়োনিক আইয়ে বাইরের ক্যামেরা চারপাশের দৃশ্য ধরে সেটাকে ইলেকট্রিক সিগনালে বদলে দেয়। সেই সিগনাল চিপের মাধ্যমে অপটিক নার্ভে পাঠালে মস্তিষ্ক সেটাকে অস্পষ্ট ছবি হিসেবে বোঝে।
পুরো দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব নয়
এখনই পুরো স্বচ্ছ দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু আলো-আঁধার, বড় আকার, গতিবিধি আর বড় অক্ষর চিনতে পারা যায়। মানে একজন মানুষ নিজে হাঁটতে পারবে, দরজা খুঁজবে, বাধা এড়াবে। এটাই দৈনন্দিন জীবনে বিশাল পরিবর্তন। ২০১৩ সালে Argus II ছিল প্রথম FDA অনুমোদিত বায়োনিক আই। এরপর Orion, Prima System-এর মতো নতুন মডেল ট্রায়ালে আছে। ভারতেও IIT আর AIIMS এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।
চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা আছে
তবে সীমাবদ্ধতাও আছে। খরচ কয়েক কোটি টাকা, সার্জারি জটিল, আর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে এক নয়। শুধু Retinitis Pigmentosa-র মতো রেটিনা-জনিত অন্ধত্বে এটা কাজ করে। জন্ম থেকে অন্ধ বা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষেত্রে নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, AI আর ন্যানোটেকনোলজি যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বায়োনিক আই আরও উন্নত আর সস্তা হবে। তখন শুধু আলো নয়, রঙ আর মুখের অভিব্যক্তিও ধরা পড়তে পারে। দৃষ্টি ফেরানোর এই পথ এখনও লম্বা, কিন্তু শুরুটা হয়ে গেছে। আর আশা? সেটা কখনও ফুরোয় না। ফলে সারা বিশ্বের কোটি কোটি দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য আশার আলো তৈরি হয়েছে। তাঁরা দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


