বাড়ির ওয়াই-ফাই সংযোগটি ঠিকমতো কাজ করছে না? রাউটার ভুল জায়গায় রাখার জন্যও সমস্যা হতে পারে। কোন সাধারণ ভুল এড়াবেন?
নতুন রাউটার বসানো হয়েছে, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও বলছে লাইনে কোনও সমস্যা নেই। তবু বাড়ির এক ঘরে ইন্টারনেট ঝড়ের গতিতে চললেও, পাশের ঘরে গেলেই ভিডিও আটকে যাচ্ছে বা অফিসের কল ভেঙে পড়ছে— এমন অভিজ্ঞতা আজ বহু বাড়িতেই নিত্যদিনের। আধুনিক জীবনে ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, দৈনন্দিন প্রয়োজন। অনলাইন মিটিং, পড়াশোনা, স্মার্ট টিভিতে ওটিটি— সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ছোট যন্ত্র, রাউটার। অথচ সেই রাউটারকেই আমরা অনেক সময় ভুল অভ্যাসে অকার্যকর করে ফেলি।
সবচেয়ে সাধারণ ভুলটি হয় রাউটার বসানোর জায়গা নিয়ে। ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে ভেবে অনেকেই রাউটার টিভি ইউনিটের ভিতরে, কাঠের ক্যাবিনেটের কোণে কিংবা টেবিলের নিচে লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বাতাসে ছড়ায়। তার সামনে যত বেশি দেয়াল, কাঠ বা ভারী আসবাব থাকবে, সিগন্যাল তত দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, রাউটার বাড়ির মাঝামাঝি খোলা জায়গায়, মেঝে থেকে অন্তত চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় রাখা হলে সিগন্যাল ছড়ানোর ক্ষমতা অনেকটাই বাড়ে। আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয় তাপের কারণে।
ধুলো পড়বে ভেবে অনেকেই রাউটারের উপর কাপড় চাপা দেন বা তার গায়ে নানা জিনিস রেখে দেন। এতে বাতাস চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং যন্ত্রটি অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রযুক্তি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত তাপ রাউটারের কর্মক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে যন্ত্রের আয়ুও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাউটারের আশপাশে থাকা জিনিসপত্রও ওয়াই-ফাই গতিতে বড় প্রভাব ফেলে। ধাতব আলমারি, বড় আয়না, ফ্রিজ বা অ্যাকোয়ারিয়ামের মতো বস্তু সিগন্যাল প্রতিহত বা ঘুরিয়ে দেয়। একই ভাবে রান্নাঘরের মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এয়ার ফ্রায়ারের মতো উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ওয়াই-ফাই ফ্রিকোয়েন্সে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকে আবার রাউটারের সফটওয়্যার আপডেটের কথা ভুলে যান। স্মার্টফোনের মতো রাউটারেও নিয়মিত ফার্মওয়্যার আপডেট জরুরি।
পুরনো সফটওয়্যারের কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে বা হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন কিছু সময়ের জন্য রাউটার বন্ধ রাখলে ভিতরের সিস্টেম রিফ্রেশ হয় এবং ছোটখাটো প্রযুক্তিগত সমস্যা নিজে থেকেই কেটে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, দুর্বল ওয়াই-ফাই মানেই নতুন রাউটার কেনা নয়। অনেক সময় নিজের অভ্যাস, রাউটার বসানোর জায়গা আর সামান্য যত্নই বদলে দিতে পারে গোটা ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা। প্রযুক্তি যত আধুনিকই হোক, সঠিক ব্যবহার আর সচেতনতার অভাব থাকলে তার পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না— এই কথাটাই মনে রাখা জরুরি।


