অতিরিক্ত স্ট্রেসে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা ঘুম, ওজন, ইমিউনিটির ক্ষতি করে। যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সিংহাসন’ বা Lion’s Breath প্রাণায়াম করলে ৪০ সেকেন্ডেই প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অ্যাক্টিভ হয়। জিভ পুরো বার করে ‘হা’ শব্দে জোরে শ্বাস ছাড়লে ভেগাস নার্ভ উদ্দীপিত হয়, যা কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে।
অফিসের ডেডলাইন, ট্রাফিক জ্যাম, মোবাইলের নোটিফিকেশন। স্ট্রেস যেন পিছু ছাড়ছে না। আর স্ট্রেস মানেই শরীরে কর্টিসল হরমোনের ঢেউ। এই হরমোন বেশি দিন থাকলে ঘুম উড়ে যায়, পেটে মেদ জমে, সুগার-প্রেশার বাড়ে। কিন্তু যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪০ সেকেন্ডের একটা ছোট্ট কসরতেই ব্রেক কষা যায় কর্টিসলে। নাম ‘সিংহাসন’ বা Lion’s Breath।

১. কীভাবে কাজ করে এই জিভ বার করার ব্যায়াম?
আমাদের শরীরে দুটো মোড আছে। সিমপ্যাথেটিক - ফাইট অর ফ্লাইট মোড, মানে স্ট্রেস মোড। আর প্যারাসিমপ্যাথেটিক - রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট মোড, মানে শান্ত মোড। স্ট্রেসে থাকলে আমরা সিমপ্যাথেটিক মোডে আটকে যাই, কর্টিসল বাড়ে।
সিংহাসন করলে ভেগাস নার্ভ অ্যাক্টিভ হয়। এই নার্ভ ব্রেন থেকে পেট পর্যন্ত গেছে। এটা অ্যাক্টিভ হলে শরীরকে সিগন্যাল দেয়, “বিপদ কেটে গেছে, এবার রিল্যাক্স করো।” হার্ট রেট কমে, ব্লাড প্রেশার নামে, কর্টিসল লেভেল ফল করতে শুরু করে। ২০২৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ যোগা’তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ১ মিনিট Lion’s Breath করলে স্যালাইভারি কর্টিসল ২৫% পর্যন্ত কমে।
২. ৪০ সেকেন্ডের নিয়মটা কী?
খুব সোজা। চেয়ারে বা মেঝেতে আরাম করে বসো। শিরদাঁড়া সোজা।
- স্টেপ ১: নাক দিয়ে বুক ভরে গভীর শ্বাস নাও।
- স্টেপ ২: মুখ বড় করে হাঁ করো। জিভ যতটা পারো বাইরে বার করে থুতনির দিকে টানো। চোখ বড় বড় করে উপরের দিকে বা ভ্রু-র মাঝে তাকাও।
- স্টেপ ৩: এবার গলা থেকে ‘হা’ আওয়াজ করে সব শ্বাস জোরে ছেড়ে দাও। যেন সিংহের গর্জন। পেট খালি হয়ে যাবে।
- স্টেপ ৪: ৫-৬ সেকেন্ড এই পজিশনে থাকো। আবার নাক দিয়ে শ্বাস নাও।
এটা ৪-৬ বার করো। পুরো প্রসেস ৪০-৫০ সেকেন্ড। দিনে ২-৩ বার, বিশেষ করে স্ট্রেস লাগলে বা ঘুমানোর আগে করলে ভালো ফল মেলে।
৩. আর কী লাভ?
শুধু কর্টিসল না। গলা, মুখ, চোয়ালের টেনশন ছাড়ে। যারা দাঁত কিড়মিড় করে বা চোয়াল শক্ত করে রাখে, তাদের আরাম হয়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে স্টিমুলেশন হয়। মুখের রক্ত চলাচল বাড়ে বলে স্কিন গ্লো করে। গায়ক, বক্তারা স্টেজে ওঠার আগে এটা করে - গলা পরিষ্কার হয়, নার্ভাসনেস কাটে। অনিদ্রার রোগীদের ঘুম আসতে সাহায্য করে।
৪. কাদের করা উচিত না?
গলায় ব্যথা, টনসিল ইনফেকশন, হাঁটু বা গোড়ালিতে চোট থাকলে বসে করতে অসুবিধা হলে চেয়ারে বসে করো। প্রেগন্যান্সিতে ডাক্তারের পরামর্শ নাও। হাই ব্লাড প্রেশার থাকলে জোরে শ্বাস ছাড়ার সময় মাথা ঘুরতে পারে, আস্তে করো।
৫. এটা কি ওষুধের বিকল্প?
না। এটা স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের একটা টুল। ক্রনিক অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন, হরমোনাল ডিজঅর্ডার থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাও। সিংহাসন তোমার নার্ভাস সিস্টেমকে সাময়িক রিলিফ দেবে, রুট কজ ঠিক করবে না। ওষুধ চললে ডাক্তারকে না বলে বন্ধ করবে না।
সোজা কথা: স্ট্রেস পেলে ল্যাপটপ বন্ধ করে ৪০ সেকেন্ড জিভ বার করে ‘হা’ করো। লোকে পাগল ভাববে, ভাবুক। তোমার কর্টিসল নামলেই হলো। শরীরের রিমোট কন্ট্রোল নিজের হাতে।
