ছানি নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা আছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ছানি পাকলে তবে অপারেশন”, “চশমা বা ওষুধে ছানি সারে”, “একবার অপারেশন হলে আবার ছানি পড়ে” - এই ৩টে মিথের জন্য বহু মানুষ সময়মতো চিকিৎসা করান না। ফলে দৃষ্টি ঝাপসা থেকে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে। ছানির একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন।

বয়স ৫০ পেরোলেই চোখে ঝাপসা? আলোর চারপাশে রিং দেখছেন? রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা? হতে পারে ছানি। কিন্তু ‘ছানি পেকেছে কিনা দেখি’ ভেবে বছরের পর বছর ফেলে রাখছেন? চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দেরিতেই লাখ লাখ মানুষ অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন। কারণ ৩টে মারাত্মক ভুল ধারণা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*ভুল ধারণা ১: ছানি পুরো পেকে সাদা না হলে অপারেশন করা যায় না*

এটা ২০ বছর আগের কথা। তখনকার ম্যানুয়াল অপারেশনে ছানি শক্ত না হলে বার করা যেত না। এখন ফ্যাকো বা লেজার ক্যাটারাক্ট সার্জারিতে ছানি নরম থাকতেই ১০-১৫ মিনিটে বের করে লেন্স বসানো যায়। বরং বেশি পাকলে ছানি শক্ত পাথর হয়ে যায়। তখন অপারেশন জটিল, রিস্ক বেশি, কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তাররা বলছেন, “দৈনন্দিন কাজ, ড্রাইভিং, পড়াশোনায় অসুবিধা শুরু হলেই অপারেশন করিয়ে নিন। চোখ সাদা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।” দৃষ্টি ৬/১৮ এর নীচে নামলেই সার্জারির কথা ভাবুন।

*ভুল ধারণা ২: চশমা, ওষুধ বা আই ড্রপে ছানি গলে যাবে*

একবার ছানি পড়লে তা কোনো ওষুধ, ড্রপ, চশমা, যোগা, খাবার বা টোটকায় সারবে না। ছানি মানে চোখের ভিতরের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়া। এটা প্রোটিন জমে হয়। ঘোলা কাঁচ যেমন মুছে স্বচ্ছ হয় না, তেমনই ছানি পড়া লেন্সও পরিষ্কার হয় না। বাজারে ‘অ্যান্টি-ক্যাটারাক্ট ড্রপ’ বলে যা বিক্রি হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চশমা শুধু কিছুদিনের জন্য ঝাপসা কমাবে। আল্টিমেট সমাধান অপারেশন করে কৃত্রিম লেন্স IOL বসানো। দেরি করলে ছানি থেকে গ্লুকোমা হয়ে চিরতরে দৃষ্টি যেতে পারে।

*ভুল ধারণা ৩: একবার ছানি কাটালে আবার ছানি পড়ে*

ছানি একবার কেটে ফেললে সেই লেন্সে আর ছানি পড়ে না, কারণ আসল লেন্সটাই বাদ চলে যায়। তবে ২০-৩০% মানুষের ক্ষেত্রে অপারেশনের কয়েক মাস বা বছর পর কৃত্রিম লেন্সের পিছনের পর্দা ঘোলা হয়ে যায়। একে বলে ‘সেকেন্ডারি ক্যাটারাক্ট’ বা PCO। এটা আসল ছানি না। এতে আবার ঝাপসা দেখায়। ভয় নেই। YAG লেজার দিয়ে ২ মিনিটে OPD তেই পরিষ্কার করা যায়। কাটাছেঁড়া, ভর্তি, সেলাই কিছু লাগে না। তাই ‘আবার হবে’ ভেবে অপারেশন না করানো বোকামি।

*আর কী কী জানা দরকার?*

*ক. ছানি শুধু বয়সে হয় না:* ডায়াবেটিস, স্টেরয়েড ওষুধ, চোখে আঘাত, জন্মগত কারণে, বেশি রোদে থাকলে কম বয়সেও ছানি পড়ে। বাচ্চাদেরও হয়।

*খ. ডায়াবেটিস থাকলে রিস্ক বেশি:* সুগার কন্ট্রোলে না থাকলে ছানি তাড়াতাড়ি বাড়ে। রেটিনাও খারাপ হয়। তাই ৩ মাস অন্তর সুগার আর বছরে ১ বার চোখ দেখান।

*গ. অপারেশন না করালে কী হবে:* ছানি বাড়তে বাড়তে লেন্স ফুলে গিয়ে গ্লুকোমা করবে। তখন প্রচণ্ড ব্যথা, বমি, ৪৮ ঘণ্টায় চিরতরে দৃষ্টি নষ্ট। তখন অপারেশন করেও লাভ নেই।

*কখন ডাক্তার দেখাবেন?*

১. চশমার পাওয়ার ৬ মাস অন্তর বদলাচ্ছে।

২. রাতে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে, গাড়ির হেডলাইটে চোখ ধাঁধাচ্ছে।

৩. রং ফ্যাকাসে লাগছে। সাদা জিনিস হলদেটে দেখাচ্ছে।

৪. এক চোখে দুটো দেখছেন।

৫. চশমা পরেও পড়তে বা টিভি দেখতে কষ্ট হচ্ছে।

*সোজা কথা:* ছানি মানে জীবন শেষ না। ১৫ মিনিটের অপারেশনে আবার ঝকঝকে দুনিয়া। ভুল ধারণায় পড়ে অন্ধকারে থাকবেন না। ৪০ বছর বয়সের পর বছরে একবার চোখ দেখান।