ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই শুধু স্তনে লাম্প বা মাংসপিণ্ড নয়, ত্বকের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক রসের মতো ছোট সংকেতও বিপদের কারণ হতে পারে। সঠিক সময়ে এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ম্যামোগ্রাম করালে রোগ পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসারের কথা উঠলেই সবার আগে মাথায় আসে স্তনে কোনো মাংসপিণ্ড বা লাম্পের কথা। কিন্তু সত্যিটা হলো, ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই যে সবসময় লাম্প থাকবে, এমনটা নয়। অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হওয়া ছোটখাটো পরিবর্তনের হাত ধরেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে ব্রেস্ট ক্যানসার পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাই লাম্প ছাড়াও শরীর যে ছোট ছোট সংকেতগুলো দেয়, সে সম্পর্কে মহিলাদের সচেতন থাকা খুব জরুরি।
যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাবেন না
১. ত্বকের পরিবর্তন ও গর্ত হওয়া: স্তনের ত্বকে ছোট কোনো পরিবর্তন এলেও তা হালকাভাবে নেবেন না। ত্বকে হঠাৎ ছোট গর্ত তৈরি হওয়া বা চামড়া ভেতরের দিকে টান ধরা বিপদের সংকেত হতে পারে। এছাড়া স্তনের ত্বক যদি কমলালেবুর খোসার মতো খসখসে বা ছিদ্রযুক্ত হয়ে যায়, তবে তা ব্রেস্ট ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ত্বকের নিচে থাকা লিম্ফ নালিতে বাধা তৈরি হলেই এমনটা ঘটে।
২. নিপলের পরিবর্তন: আগে স্বাভাবিক থাকা নিপল যদি হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যায় বা তার আকার বদলে যায়, তবে সতর্ক হোন। পাশাপাশি নিপলের চারপাশের ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, চামড়া ওঠা বা সারাক্ষণ চুলকানি অনুভব করাও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক রস বেরোনো: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যপানের সময় ছাড়া নিপল থেকে নিজে থেকেই কোনো তরল বেরোলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে একটি স্তন থেকে রক্ত মেশানো বা সাধারণ রস বেরোলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।
৪. স্তনের আকার ও আকৃতিতে বদল: দুটি স্তনের আকার পুরোপুরি একরকম না হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে যদি একটি স্তনের আকার বদলে যায়, একদিক ফুলে ওঠে বা স্তনের বাঁকে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে, তবে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।
৫. বগল ও ঘাড়ে ফোলাভাব: শুধু স্তন পরীক্ষা করলেই হবে না। বগল বা কলার বোনের নিচের অংশে ছোট কোনো ফোলাভাব বা মাংসপিণ্ড ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসার কোষগুলো লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে স্তনে লাম্প তৈরি হওয়ার আগেই এই ধরনের ফোলাভাব দেখা দেয়।
৬. একটানা ব্যথা বা অস্বস্তি: ঋতুচক্রের কারণে স্তনে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু স্তন বা বগলের কোনো নির্দিষ্ট অংশে একটানা জ্বালা, ভারী ভাব বা ব্যথা অনুভব করলে তা মোটেও এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
নিজে পরীক্ষা ও আগাম রোগ নির্ণয়
> নিজে স্তন পরীক্ষা: ২০ বছর বয়সের পর থেকে সব মহিলারই মাসে অন্তত একবার নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। পিরিয়ড শেষ হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর এই পরীক্ষা করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
> ম্যামোগ্রাম স্ক্রিনিং: ৪০ বছর বয়স পেরোলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। এর ফলে চোখে না পড়া ছোট পরিবর্তনগুলোও প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে।
ওপরের লক্ষণগুলো দেখলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই সব লক্ষণ মানেই যে ক্যানসার, তা কিন্তু নয়। সংক্রমণ বা সিস্টের কারণেও এমন সাধারণ পরিবর্তন হতে পারে। তবে কোনো অনকোলজিস্ট বা সার্জনের পরামর্শ নিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান বা ম্যামোগ্রাম করিয়ে সন্দেহ দূর করাটাই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।
নিজের শরীরে হওয়া ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারাটাই আসল। লজ্জা বা ভয়ের কারণে লক্ষণগুলো লুকিয়ে না রেখে, শুরুতেই চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াটা সুস্থতার দিকে প্রথম পদক্ষেপ। মনে রাখবেন, ব্রেস্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগাম লক্ষণ চিনতে পারলেই রোগ মুক্তির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।






