বর্ষাকালে এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গি একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা ও র‍্যাশ, যা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো মনে হতে পারে। 

বর্ষাকালে ডেঙ্গির প্রকোপ খুব বেড়ে যায়। এটি একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, যা এডিস (Aedes) প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষা এবং তার ঠিক পরেই এই মশাবাহিত রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মূলত এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গি ভাইরাস শরীরে ঢোকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ডেঙ্গির শুরুটা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই। প্রথম দিকেই প্রচণ্ড জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, দুর্বলতা, চোখের পিছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব আর গায়ে র‍্যাশ বেরোতে পারে। এই লক্ষণগুলো প্রথম কয়েকদিন দেখা যায়।

বেশিরভাগ ডেঙ্গি রোগীই ঠিকমতো বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসায় সেরে ওঠেন। কিন্তু উপসর্গ উপেক্ষা করলে এই রোগ মারাত্মক আকার নিতে পারে। গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইনফেকশাস ডিজিজ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ নেহা রাস্তোগি বলেন, "ডেঙ্গির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, জ্বরটা যখন কমার দিকে যায়, ঠিক তখনই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"

শুরুতে ডেঙ্গির লক্ষণগুলো মূলত জ্বরের মতোই হয়। হঠাৎ করে খুব বেশি জ্বর আসাই এর প্রথম লক্ষণ। এর সঙ্গে প্রচণ্ড শরীর ব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা এবং চোখের পিছনে ব্যথাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে বমি ভাব, বমি, ক্লান্তি বা ত্বকে হালকা র‍্যাশও দেখা যায়। ডাক্তাররা বলছেন, এই সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা, অর্থাৎ পর্যাপ্ত জল খাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা মাপা এবং নিজে থেকে কোনও ওষুধ না খাওয়া খুব জরুরি। কয়েকদিনের মধ্যে ডেঙ্গি মারাত্মক দিকে মোড় নিতে পারে, তাই প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।

সাধারণত রোগের চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। এই সময় রক্তচাপ এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। প্লেটলেট কাউন্টও কমতে শুরু করতে পারে। যদিও প্লেটলেট কম মানেই যে সবার অবস্থা গুরুতর হবে, তা নয়। তবে উপসর্গের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়া মারাত্মক ডেঙ্গির লক্ষণ হতে পারে।

কিছু রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি, অস্থিরতা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, বমির সঙ্গে রক্ত বা কালো মল বেরোনোর মতো রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে ডেঙ্গি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া বুকে বা পেটে জল জমার কারণে শ্বাসকষ্টও হতে পারে।