Eye Care: বর্ষার নোংরা জল, ধুলো, ফাঙ্গাস, হিউমিডিটি - সব মিলে চোখের সংক্রমণ ৪০% বেড়েছে। চোখের ডাক্তার বলছেন, চোখ লাল হওয়া, জল পড়া, চুলকানি, আলো সহ্য না হওয়া - এগুলো কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ। বাঁচার নিয়ম: ১. চোখ কচলাবে না হাত দিয়ে। ২. রাস্তার জল চোখে লাগলে সাথে ঠান্ডা জলে ধোও। ৩. নিজের তোয়ালে, কাজল, চশমা কাউকে দেবে না। ৪. কন্ট্যাক্ট লেন্স বর্ষায় বাদ।
Health News: অফিস থেকে ফেরার পথে বাসের জল ছিটকে চোখে পড়লো। রাতে চোখ চুলকালো। সকালে উঠে দেখো এক চোখ লাল, জল পড়ছে, আঠা আঠা। পাশের জন বললো "চোখ উঠেছে"। তুমি হাত দিয়ে কচলে দিলে। ব্যাস, পরের দিন দুই চোখই গেল।

বর্ষার আর্দ্রতা ৮০% পেরিয়ে গেলেই বাতাসে ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের পার্টি শুরু হয়। আর চোখের কনজাংটিভা হলো ওদের ফেভারিট জায়গা। তাই এখন চোখের রোগীর লাইন চেম্বারে।
চোখ বাঁচানোর ৫টা গোল্ডেন নিয়ম:
নিয়ম ১: হাত = চোখের শত্রু। কচলানো বন্ধ কারো চোখ চুলকাচ্ছে মানেই হাত চলে যাচ্ছে। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। তোমার হাতে সারাদিনের ধুলো, মোবাইলের জীবাণু লেগে আছে। কচলালেই সেই জীবাণু সোজা চোখে। এক চোখে ইনফেকশন হলে কচলালে অন্য চোখেও যাবে। চুলকানি হলে পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে আলতো করে চাপ দাও। বা ঠান্ডা জলের ঝাপটা দাও।
নিয়ম ২: রাস্তার জল = বিষ। লাগলে ধোও সাথে কলকাতার রাস্তার জলে কী নেই - গাড়ির মবিল, ময়লা, ড্রেনের জল। ওটা চোখে পড়া মানে ডাইরেক্ট ইনফেকশন। ছিটকে পড়া মাত্র বাড়ি/অফিসে গিয়ে ঠান্ডা, পরিষ্কার জল দিয়ে ১ মিনিট চোখ ধোও। চোখের পাতা হালকা করে খুলে ধোও। চোখের ড্রপ ক্যারি করো ব্যাগে। "Lubricant eye drop" - ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে একটা রাখো।
নিয়ম ৩: নিজের জিনিস নিজের। শেয়ারিং ব্যান কনজাংটিভাইটিস ছোঁয়াচে। একজনের তোয়ালে দিয়ে তুমি মুখ মুছলে তোমারও হবে। তাই বর্ষায় আলাদা তোয়ালে, আলাদা বালিশের কভার। কাজল, আইলাইনার, চশমা, কন্ট্যাক্ট লেন্সের কেস - কাউকে ধার দেবে না, কারো থেকে নেবে না। অফিসে সহকর্মীর চোখ লাল দেখলে তার কলমও ধোরো না।
নিয়ম ৪: কন্ট্যাক্ট লেন্স + কাজল = বর্ষায় ছুটি লেন্স পরলে চোখে অক্সিজেন কম যায়। তার উপর বর্ষার ধুলো লেন্সের নিচে জমে। রেজাল্ট - কর্নিয়া ইনফেকশন। তাই বর্ষার ৩ মাস চশমা পরো। আর কাজল-লাইনার? ওগুলো ব্যাকটেরিয়ার আড্ডা। খোলা কাজল ৩ মাস পর ফেলে দাও। বর্ষায় নতুন কেনো, আর রাতে শোওয়ার আগে ভালো করে মেকআপ তুলে ফেলো।
নিয়ম ৫: চোখে আলো লাগলে, ঝাপসা দেখলে ডাক্তার মাস্ট অনেকে ভাবে "২ দিন পর ঠিক হয়ে যাবে"। কিন্তু চোখের ক্ষেত্রে ২ দিন = অনেক দেরি। যদি চোখে ব্যথা হয়, আলো সহ্য না হয়, ঝাপসা দেখো, পুঁজ-আঠা বের হয়, বা চোখ ফুলে যায় - তাহলে ঘরোয়া টোটকা বাদ। কালকেই চক্ষু ডাক্তার দেখাও। দেরি করলে কর্নিয়ায় ঘা হয়ে চিরকালের জন্য দৃষ্টি কমে যেতে পারে।
বোনাস টিপস: ১. বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধোওয়ার সময় চোখেও জলের ঝাপটা দাও। ২. সানগ্লাস পরো বেরোলে। ধুলো-জল থেকে বাঁচাবে। UV প্রোটেকশনও হবে। ৩. যার চোখ উঠেছে তার থেকে ৩ ফুট দূরে থাকো। হাঁচি-কাশি থেকেও ছড়ায়।
শেষ কথা: চোখ গেলে সব যায়। বর্ষার মজা নাও, কিন্তু চোখের যত্ন নাও। "চোখ উঠেছে, কিছু হবে না" - এই ভাবনা বাদ দাও। ৫টা নিয়ম মানো, চোখ ভালো রাখো।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

