আদা কুরোনোর আগে নরমাল ফ্রিজে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। ঠান্ডা হয়ে শক্ত হলে আদা আর দলা পাকাবে না। কাটা-কুরাও সহজ হবে, হাতও সেফ থাকবে।

বাঙালির রান্নাঘরে আদা ছাড়া একটা দিনও চলে না। চায়ে আদা না পড়লে সকালটাই জমে না। তরকারি, ডাল, মাংস - সবেতেই আদা-বাটা বা কুচি লাগবেই।

কিন্তু সমস্যা হয় আদা কুরোতে গেলেই। নরম আদা হাতে নিলেই মনে হয় আঙুল কেটে যাবে। আর গ্রেটারে ঘষতে গেলে আঁশ বেরিয়ে এমন দলা পাকায় যে গ্রেটারের সব গর্ত বন্ধ হয়ে যায়। শেষে রেগে গিয়ে আদা ফেলেই দিতে ইচ্ছা করে।

এই ছোট্ট ঝামেলার জন্য রান্না শুরু করার মুডটাই নষ্ট হয়ে যায়, তাই না? টেনশন করবেন না। এই সমস্যার সমাধান আপনার ফ্রিজেই আছে।

মুশকিল আসান ১টা কাজ - ফ্রিজে রাখুন

রান্না শুরু করার আগে, আনাজপাতি কাটার ১০-১৫ মিনিট আগে আদার টুকরোটা নরমাল ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। ডিপ ফ্রিজে বরফ করার দরকার নেই। ব্যস, এটুকুই। এরপর দেখুন ম্যাজিক।

ঠান্ডা আদা কেন এত সহজে কুরা যায়?

আসলে নরমাল ফ্রিজের ঠান্ডায় আদার ভিতরে থাকা জলীয় অংশটা একটু জমে যায়। আদাটা নরম না থেকে একটু শক্ত আর ঝুরঝুরে হয়ে যায়।

ফলে যখন আপনি গ্রেটারে ঘষবেন, তখন আর আঁশ বেরিয়ে আটকাবে না। একদম মিহি, ঝরঝরে কুচি বের হবে। গ্রেটারও পরিষ্কার থাকবে।

এই টিপসের আরও ২টো বড় সুবিধা আছে

১. খোসা ছাড়ানো আর আঙুল কাটার ভয় নেই নরম আদার পাতলা খোসা ছাড়াতে গিয়ে কতবার আঙুল কেটেছেন বলুন তো? ঠান্ডা আদার ক্ষেত্রে ওই ঝামেলা নেই। একটা চামচের পিছন দিক দিয়ে আলতো করে ঘষুন। দেখবেন খোসা নিজে থেকেই উঠে যাচ্ছে। ছুরি ধরতেই হবে না।

২. একবারে বেশি করে কুরে স্টোর করে রাখুন আপনার যদি রোজ আদা লাগে, তাহলে একবারে ২-৩টে আদা কুরে নিন। তারপর একটা কাঁচের এয়ারটাইট বক্সে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। যখন রান্না করবেন, ১ চামচ বের করে ব্যবহার করবেন। রোজ রোজ কুরানোর ঝামেলা একদম শেষ।

একটা ছোট্ট প্রো টিপ মনে রাখবেন আদাকে বেশি ক্ষণ ফ্রিজে রাখলে একদম পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাবে। তখন আবার কুরতে অসুবিধা হবে। তাই ১০ থেকে ১৫ মিনিটই একদম পারফেক্ট সময়। আর ব্যবহারের পর বাকি আদা আবার ফ্রিজে রেখে দেবেন, নাহলে নরম হয়ে যাবে।

দেখলেন তো? কত সহজ। এরপর থেকে আদা কুরানো নিয়ে আর একদম চিন্তা নেই। ১০ সেকেন্ডে কাজ শেষ।