শহরের বুকের সেই ফ্ল্যাট বাড়িতে বাগানের শখ থাকলে ভরসা একচিলতে ব্যালকনি। অনেকের আবার আক্ষেপ, রোদের অভাবে তেমন গাছ বসানো সম্ভব নয়। কেউ কেউ আবার মাটির ফলে অপরিষ্কার হতে পারে ব্যালকনি। তবে জানেন কী, মাটির বদলে শুধু জলেও গাছ বসানো সম্ভব।

ঘর সাজাতে আর মাটির ঝামেলা নয়। কিছু গাছ আছে যারা শুধু জলেই সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। ছোট ফ্ল্যাট, অফিস ডেস্ক বা ব্যালকনি — সব জায়গায় মানিয়ে যায় এই জলজ গাছ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মানি প্ল্যান্ট বা পোথোস: সবচেয়ে সহজ। একটা কাটিং কাঁচের বোতলে জলে ডুবিয়ে রাখলেই শিকড় ছেড়ে দেয়। কম আলোতেও বাঁচে আর বাতাস শুদ্ধ করে। ঘরের দূষণ কমানোর পাশাপাশি নেগেটিভ এনার্জি দূর করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

লাকি ব্যাম্বু দেখতে বাঁশের মতো হলেও আসলে ড্রাকেনা প্রজাতির। জলে রাখলে ধীরে ধীরে লম্বা হয় আর ঘরে ইতিবাচক শক্তি আনে। ভাস্টু অনুযায়ী এটা সৌভাগ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক।

স্পাইডার প্ল্যান্ট জলে রাখলে শিকড়ের সঙ্গে ছোট ছোট চারাও গজায়। এটা বাতাসের কার্বন মনোক্সাইড আর টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। যত্নও খুব কম লাগে।

ফিলোডেনড্রন আর মন্সটেরা-র ছোট কাটিংও জলে ভালো থাকে। বড় বড় পাতা ঘরে ট্রপিক্যাল লুক এনে দেয়।

ইন্ডোর প্ল্যাট হিসাবে অ্যারোহেড প্ল্যান্ট বা সিঙ্গোনিয়াম অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তীরের মাথার মতো আকারের এই গাছগুলি বেশিরভাগ গৃহস্থের পছন্দের। পাতার রং সবুজ, সাদা এবং গোলাপি রঙের হয়। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোয় বেড়ে ওঠে গাছগুলি। সরাসরি কড়া রোদে ভুলেও রাখবেন না। সাধারণত আর্দ্র পরিবেশই পছন্দ গাছটির। পাতা বা কাণ্ড খেলে মানুষ এবং পোষ্যের ক্ষতি হতে পারে। বাড়িতে খুদে সদস্য থাকলে সাবধান হোন।

কোলিয়াস পাতারও মূল ইউএসপি পাতা। আপনিও চাইলে ঝক্কিহীন এই গাছটিকে বাড়ির ব্যালকনি কিংবা ড্রয়িং রুমে রাখতেই পারেন। ফেংশুই মতে, এই গাছটি অত্যন্ত শুভ। কথিত আছে, এই গাছটির বাড়বাড়ন্তের উপর আপনার সৌভাগ্য নাকি নির্ভর করে।

ইংলিশ আইভিও মূলত ইন্ডোর প্ল্যান্ট। এই গাছটি জলে বড় হতে পারে। তাই আজই মাটির বদলে শুধু জলে ইংলিশ আইভি গাছটি বসাতে পারেন। তবে মাথায় রাখতে হবে, জল যেন অপরিষ্কার না হয়। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার জল পরিবর্তন করতে হবে।

এই গাছগুলোর জন্য শুধু পরিষ্কার জল দরকার। ৭-১০ দিন অন্তর জল বদলাতে হবে যাতে শ্যাওলা না জমে। সরাসরি রোদ লাগবে না, উজ্জ্বল আলোই যথেষ্ট। মাসে একবার লিকুইড ফার্টিলাইজারের ২-৩ ফোঁটা দিলে পাতা আরও সবুজ আর ঝলমলে থাকবে।

মাটির গাছে পোকামাকড় বা মাটি ছড়ানোর সমস্যা থাকে। জলজ গাছে সেটা নেই, তাই ব্যস্ত মানুষদের জন্য এটা আদর্শ। একটা সুন্দর কাঁচের জার বেছে নিয়ে তাতে রঙিন নুড়ি দিয়ে গাছ বসিয়ে দিলেই ঘরের কোণটা হয়ে উঠবে চোখ জুড়ানো।

ব্যস্ত জীবনেও সবুজের ছোঁয়া পেতে জলজ গাছই সেরা বিকল্প। শুধু জল আর আলো — ব্যস, প্রকৃতি চলে আসবে আপনার ঘরে।