শরীর ফিট রাখতে জিমে যাচ্ছেন? সাবধান! অতিরিক্ত ব্যায়াম বা ভুল নিয়মে শরীরচর্চা ডেকে আনতে পারে হার্ট অ্যাটাক। সম্প্রতি জিমে বা মর্নিং ওয়াকে হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। কেন হয় এমন? কোন উপসর্গ দেখলে থামবেন? আর কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? জানুন চিকিৎসকদের মতামত।
সুস্থ থাকতে ব্যায়াম, কিন্তু সেই ব্যায়ামই যেন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে! গত কয়েক বছরে জিমে ট্রেডমিলে দৌড়তে দৌড়তে বা ভারী ওয়েট লিফটিং করতে করতে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ার ঘটনা বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ব্যায়াম করতে গিয়েও কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
ব্যায়াম করতে গিয়ে কেন হার্ট অ্যাটাক হয়?
চিকিৎসকরা বলছেন, এর পিছনে ৩টে প্রধান কারণ আছে।
১. হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ: যারা সারাবছর বসে কাজ করেন, হঠাৎ জিমে গিয়ে শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দিলে হৃদযন্ত্রের উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এতে ব্লাড প্রেশার হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।
২. লুকিয়ে থাকা হার্টের রোগ: অনেকের হার্টের ব্লকেজ বা Hypertrophic Cardiomyopathy আগে থেকেই থাকে, যা বোঝা যায় না। ব্যায়ামের সময় হার্টবিট বেড়ে গেলে সেই রোগ সামনে আসে। ৪০ বছরের কম বয়সীদের জিমে মৃত্যুর এটাই প্রধান কারণ।
৩. ওয়ার্ম-আপ না করা: সরাসরি ভারী ব্যায়াম শুরু করা খুব বিপজ্জনক। এতে পেশিতে টান পড়ে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়।
কাদের বেশি সতর্ক থাকা জরুরি?
- যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস আছে
- যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল বেশি
- যারা ধূমপান করেন
- ৪০ বছরের বেশি বয়সীরা যারা হঠাৎ জিম শুরু করেছেন
- যারা জিমে গিয়ে Pre-workout বা স্টেরয়েড জাতীয় সাপ্লিমেন্ট নেন
কোন লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থামবেন?
ব্যায়াম করার সময় বুকে চাপ বা ব্যথা, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা, বুকে ধড়ফড়ানি, বমি ভাব বা বাঁ হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে এক সেকেন্ডও দেরি করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ুন এবং চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, জিমে ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই একবার ECG এবং ব্লাড প্রেশার চেক করান। হুজুগে পড়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম নয়, নিজের শরীর বুঝে ধীরে ধীরে ফিটনেস বাড়ান।
