বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে চলে না, কিন্তু হৃদরোগ থাকলে সব মাছ ভাল নয়। পুঁটি, তেলাপিয়া, ইলিশ, রুই-কাতলা বা চারা পোনা - কোন মাছে ওমেগা-৩ বেশি আর কোন মাছে চর্বি বেশি, তা জানা জরুরি। হার্টের ডাক্তাররা বলছেন, মাছ বাছাইয়ে ভুল হলেই কোলেস্টেরল ও প্রেশার বাড়তে পারে।

হার্টের সমস্যা মানেই মাছ-মাংস বন্ধ নয়, বরং বুঝে খাওয়া। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের জন্য সবচেয়ে ভালো ওষুধ। কিন্তু সব মাছে সমান ওমেগা-৩ থাকে না।

হার্টের জন্য সেরা ৩টি মাছ:

১. ছোট মাছ - পুঁটি, মৌরলা, চারা পোনা (১০০% নিরাপদ): হার্টের রোগীদের জন্য ছোট মাছ অমৃত। পুঁটি মাছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D এবং ওমেগা-৩ সবচেয়ে বেশি থাকে। এতে খারাপ চর্বি প্রায় নেই। কাঁটা-সহ খাওয়া যায় বলে হাড়ও মজবুত হয়। সপ্তাহে ২-৩ দিন খেতে পারেন। চারা রুই বা চারা পোনা বড় পাকা পোনার চেয়ে অনেক ভালো, কারণ বড় মাছে চর্বি বেশি জমে।

২. রুই-কাতলা (চারা, পাকা নয়): রুই, কাতলা, মৃগেল - এগুলো লিন ফিশ। মানে কম ফ্যাট, বেশি প্রোটিন। হার্টের জন্য খুব ভালো। তবে মনে রাখবেন, ১ কেজির নিচে চারা মাছ কিনবেন। ২-৩ কেজির পাকা রুই-কাতলার পেটে অনেক তেল থাকে, যা কোলেস্টেরল বাড়ায়। পেটি বাদ দিয়ে গাদার পিস খান।

৩. তেলাপিয়া (পরিমিত): তেলাপিয়া সহজলভ্য এবং কম কাঁটা। এতে প্রোটিন ভালো, কিন্তু ওমেগা-৩ পুঁ*-টির তুলনায় কম। হার্টের রোগীরা খেতে পারেন, তবে ভাজা নয়, ঝোল বা সেদ্ধ করে। চাষের তেলাপিয়া হলে ভালো করে ধুয়ে খাবেন।

হার্টের রোগীরা কোন মাছ এড়িয়ে চলবেন?

ইলিশ - সবচেয়ে বিপজ্জনক: বাঙালির প্রিয় ইলিশ হার্টের জন্য একদম ভালো নয়। ইলিশে ওমেগা-৩ থাকলেও এর চেয়ে ৫ গুণ বেশি থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২০ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড দ্রুত বাড়ে। হার্টে ব্লকেজ থাকলে ইলিশ মাসে ১ বারের বেশি নয়, তাও ছোট পিস, সর্ষে দিয়ে কড়া ভাজা একদম নয়।

কীভাবে রান্না করবেন?

১. সরষের তেলে কড়া ভাজা, চিংড়ি-ইলিশের তেল-ঝাল একদম বন্ধ। ২. পাতলা ঝোল, টমেটো দিয়ে, ধনে পাতা দিয়ে রান্না করুন। ৩. চামড়া ও পেটের তেল ফেলে দিন। ৪. সপ্তাহে মাছ ৩-৪ দিন, মাংস ১ দিনের বেশি নয়।

হার্ট ভালো রাখতে সবচেয়ে ভালো হল পুঁটি, মৌরলা, ছোট চারা পোনা। দ্বিতীয় স্থানে রুই-কাতলার গাদা। আর ইলিশ থাকুক উৎসবের পাতে, রোজকার পাতে নয়। কোনও ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন।