মাংস, দুধ, ডিম এমনকি ফল ও সবজির মাধ্যমেও আমাদের শরীরে অজান্তেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, অ্যালার্জি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে FSSAI
শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে তা সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, আপনার অজান্তেই শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকছে? মাংস, দুধ, ডিম এমনকি ফল ও সবজির মাধ্যমেও আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক পৌঁছাচ্ছে। পশুপালন থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনের সময় বিভিন্ন ওষুধের ব্যবহারের কারণেই এমনটা হচ্ছে। এই ওষুধগুলোর কিছু অংশ খাবারের মধ্যে থেকে যায়, যা আমাদের শরীরে ঢুকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই বাড়তি অ্যান্টিবায়োটিক থেকে কীভাবে বাঁচা যায় এবং এর ফলে কী কী মারাত্মক বিপদ হতে পারে।

কীভাবে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক পৌঁছাচ্ছে?
মূলত পশুজাত পণ্য যেমন মাংস, ডিম এবং দুধের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে ঢুকছে। নিয়ম অনুযায়ী, পশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের ডিম, মাংস বা দুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু এই নিয়ম না মানা হলে, সেই অ্যান্টিবায়োটিক খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরেও চলে আসে। আবার যারা নিরামিষাশী, তাদের ক্ষেত্রে ফল ও সবজিতে ব্যবহার করা কীটনাশকের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক থালায় পৌঁছায়। অনেক সময় কারখানার বর্জ্য বা ওষুধের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে মাটি দূষিত হয় এবং গাছের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
খাবারের অ্যান্টিবায়োটিক থেকে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
- অ্যালার্জি বা র্যাশ
- হাইপারসেনসিটিভিটি
- অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (ওষুধ কাজ না করা)
- হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা
- হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
- কিডনি ও লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি
- শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর
- পেটে অস্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি
খাবারের অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বাঁচার উপায় কী?
- সবসময় Food Safety and Standard Authority of India (FSSAI) লাইসেন্সযুক্ত পণ্য কিনুন।
- দুধ, মাংস বা ডিম স্থানীয় দোকান থেকে না কিনে কোনও নামী ব্র্যান্ডের কিনুন।
- খুব সস্তা বা হঠাৎ করে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, এমন খাবার এড়িয়ে চলুন।
- রান্না করার সময় খাবার সবসময় ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করুন। অর্গানিক বা সার্টিফায়েড পণ্য কেনার চেষ্টা করুন। এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে আপনি অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।


