Food Tips: গরমে কাঁচা আমই ভরসা। ভিটামিন C-তে ভরপুর এই ফল শরীর ঠান্ডা রাখে, লু আটকায়, হজমও করায়। আম পোড়া শরবত থেকে টক ডাল – ৫ মিনিটের রেসিপিতে গরম কাটান। গ্যাস কম জ্বলবে, পেট ঠান্ডা থাকবে। রইল কাঁচা আমের ৫টি জাদু রেসিপি।
Food Tips: গরম পড়তেই বাঙালির মন চায় টক-ঝাল-মিষ্টি। আর কাঁচা আমের সিজনে এর থেকে ভালো বন্ধু আর কী আছে! গাছপাকা আমের গন্ধে মন ভরে, আর কাঁচা আমের টক-এ পেট জুড়ায়। লু লাগার ভয়? আমই সেরা ওষুধ। গরমে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে, ঘাম কমায়। তাই ফ্রিজে ২-৩টে কাঁচা আম রেখে দিন। রোজ পাতে পড়ুক কাঁচা আমের জাদু।

কাঁচা আম – গরমের ন্যাচারাল কুলার
কাঁচা আমে আছে পেকটিন, ভিটামিন C আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটা শরীরের ভেতরের তাপ কমায়, সানস্ট্রোক আটকায়। তাই গরমকালে রোজ একটু করে কাঁচা আম খাওয়া ডাক্তাররাও বলেন। তেল-মশলা ছাড়া হালকা রেসিপি হলে তো কথাই নেই।
৫টি কাঁচা আমের আরামের রেসিপি:
১. আম পোড়া শরবত – লু-এর যম
উপকরণ: কাঁচা আম ১টা, বিটনুন, ভাজা জিরে-মৌরি গুঁড়ো, চিনি/গুড়, পুদিনা, জল, বরফ।
আমটা গ্যাসের আঁচে পুড়িয়ে খোসা ছাড়ান। শাঁস বের করে মিক্সিতে চিনি, নুন, জিরে, পুদিনা, ২ গ্লাস জল দিয়ে ঘুরিয়ে নিন। ছেঁকে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।
উপকার: শরীর ঠান্ডা রাখে, ঘামজনিত দুর্বলতা কাটায়। গরমে বাইরে থেকে এসে এক গ্লাস মাস্ট।
২. আমের টক ডাল – ভাতের আসল সঙ্গী
উপকরণ: মসুর ডাল ১ বাটি, কাঁচা আম ১টা ডুমো করে কাটা, পাঁচফোড়ন, শুকনো লঙ্কা, নুন, হলুদ, চিনি।
ডাল সেদ্ধ করে নিন। কড়াইয়ে তেল-পাঁচফোড়ন-লঙ্কা ফোড়ন দিন। আম দিয়ে হালকা ভেজে ডাল ঢালুন। নুন, হলুদ, একটু চিনি দিয়ে ফুটিয়ে নামান।
উপকার: টক-মিষ্টি স্বাদে ভাত বেশি খাওয়া হয়। হজমে সাহায্য করে, পেট ঠান্ডা রাখে।
৩. কাঁচা আমের কাসুন্দি – মুখে রুচি ফেরাবে
উপকরণ: কাঁচা আম কুচি ১ কাপ, কাসুন্দি ২ চামচ, বিটনুন, চিনি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, সরষের তেল।
আম কুচি নুন-চিনি মাখিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। জল ছেড়ে দেবে। এবার কাসুন্দি, লঙ্কা, সরষের তেল মিশিয়ে নিন।
উপকার: মুখের স্বাদ ফেরায়। ভাত, রুটি, মুড়ি – সবের সাথে খাওয়া যায়। অ্যাসিডিটি কমায়।
৪. আম-ধনেপাতার চাটনি – ৫ মিনিটে রেডি
উপকরণ: কাঁচা আম ১টা, ধনেপাতা ১ কাপ, কাঁচা লঙ্কা ২টো, বিটনুন, চিনি, ভাজা জিরে গুঁড়ো।
আমের খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করুন। ধনেপাতা, লঙ্কা, নুন, চিনি, জিরে দিয়ে মিক্সিতে পেস্ট করুন।
উপকার: গরমে অরুচি দূর করে। পেট ঠান্ডা রাখে। মাছ ভাজা বা ডিম সেদ্ধর সাথে দারুণ লাগে।
৫. আম-আদার শরবত – হজমের বন্ধু
উপকরণ: কাঁচা আমের শাঁস ½ কাপ, আদা কুচি ১ চামচ, বিটনুন, গুড়, জল।
আমের শাঁস আর আদা একসাথে বেটে নিন। গুড় আর বিটনুন মিশিয়ে ২ গ্লাস জল ঢালুন। ছেঁকে খান।
উপকার: ভারী খাবারের পর পেট ফাঁপা কমায়। গ্যাস-অম্বল দূর করে। হজমশক্তি বাড়ায়।
কাঁচা আম খাওয়ার ৩টি সোনার নিয়ম
প্রথমত, খালি পেটে কাঁচা আম খাবেন না। এতে অ্যাসিডিটি হতে পারে। ভরা পেটে বা রান্না করে খান। দ্বিতীয়ত, বেশি পাকা আমের সাথে কাঁচা আম মেশাবেন না। তৃতীয়ত, ডায়াবেটিস থাকলে চিনি/গুড় কম দেবেন, গুড় দিলে ভালো।
শেষ কথা
গরমে এসি আর কোল্ড ড্রিঙ্কসের বদলে ভরসা রাখুন কাঁচা আমের ওপর। প্রকৃতির দেওয়া এই কুলার আপনার পেটও ঠান্ডা রাখবে, মনও। তাই বাজার থেকে কাঁচা আম আনুন, আর পাত জমিয়ে ফেলুন টক-ঝাল-মিষ্টিতে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


