আমের সিজন শেষ হতে চলল। কিন্তু শেষ পাতে জমিয়ে খাওয়ার জন্য চাই একটা স্পেশাল মিষ্টি। রেস্তোরাঁয় ৩০০ টাকা প্লেট, সেটাই বাড়িতে বানান মাত্র ১০০ টাকায়। লাগবে শুধু ৩টে জিনিস: আম, টক দই আর কনডেন্সড মিল্ক। গ্যাস জ্বালানোর ঝামেলা নেই, ১৫ মিনিটে রেডি। এই ‘আম ভাপা দই’ একবার খেলে জামাইও শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে চাইবে না।

আমের মরশুমে শেষ পাত হবে জমজমাট! বাড়িতেই বানান রেস্তোরাঁ স্টাইলের ‘আম ভাপা দই’। বাজার ভর্তি হিমসাগর, ল্যাংড়া। আমের সিজন শেষের পথে। আর এই সময় শেষ পাতে যদি না পড়ে একটা জম্পেশ মিষ্টি, তাহলে গোটা ভোজটাই মাটি। ভাবছেন রসগোল্লা, সন্দেশ তো কমন। তাহলে এবার ট্রাই করুন রেস্তোরাঁর সিগনেচার ডেজার্ট – ‘আম ভাপা দই’। বিশ্বাস করুন, বানানো জলের মতো সোজা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*১. কেন এই আম ভাপা দই স্পেশাল?*

প্রথমত, নো গ্যাস, নো ঝামেলা। ওভেন বা মাইক্রোওয়েভ লাগবে না। দ্বিতীয়ত, ৩টে মেইন উপকরণ। তৃতীয়ত, টেস্ট? একদম রেস্তোরাঁর মতো ক্রিমি, স্মুদ। উপরে আমের টুকরো আর পেস্তা কুচি দিলে দেখতে লাগবে ৫-স্টার ডেজার্টের মতো। বাড়ির গেস্ট থেকে বাচ্চা – সবাই চেটেপুটে খাবে।

*২. কী কী লাগবে? বাজেট ১০০ টাকা*

- *পাকা মিষ্টি আম:* ২টো বড় হিমসাগর বা ল্যাংড়া। পাল্প বের করে নেবেন, প্রায় ১ কাপ।

- *টক দই:* ২ কাপ। জল ঝরানো। টক দই না হলে মিষ্টি দইয়ে ভালো টেস্ট আসবে না।

- *কনডেন্সড মিল্ক:* ১ কাপ বা ২০০ গ্রামের টিনের অর্ধেক। এটাই মিষ্টি আর ক্রিমিনেস দেবে।

- *সাজানোর জন্য:* কিছু আমের কিউব, পেস্তা কুচি, জাফরান ২-৩টা।

*৩. বানানোর পদ্ধতি*:

*স্টেপ ১:* টক দই একটা পাতলা কাপড়ে বেঁধে ২ ঘণ্টা ঝুলিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। একে বলে ‘হাং কার্ড’। এটাই ভাপা দইয়ের সিক্রেট। জল থাকলে দই বসবে না।

*স্টেপ ২:* মিক্সিতে আমের পাল্প, জল ঝরানো দই আর কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে স্মুদ পেস্ট বানান। দানা যেন না থাকে।

*স্টেপ ৩:* একটা স্টিলের টিফিন বক্স বা অ্যালুমিনিয়ামের বাটিতে সামান্য ঘি ব্রাশ করুন। মিশ্রণটা ঢেলে দিন। উপরে ফয়েল পেপার বা ঢাকনা দিয়ে টাইট করে আটকান।

*স্টেপ ৪:* কড়াইতে জল গরম করুন। মাঝে একটা স্ট্যান্ড বসিয়ে তার উপর বাটিটা দিন। ঢাকা দিয়ে ২০-২৫ মিনিট মিডিয়াম আঁচে ভাপান। গ্যাস না থাকলে প্রেশার কুকারে জল দিয়ে সিটি ছাড়া ২০ মিনিট রাখুন।

*স্টেপ ৫:* ঠান্ডা হলে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে সেট করুন। বের করে ছুরি দিয়ে কেটে উপরে আমের কিউব, পেস্তা ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

*৪. পারফেক্ট বানানোর ৩টে প্রো-টিপস*

*টিপ ১:* আম টক হলে ভাপা দই ফেটে যাবে। তাই মিষ্টি পাকা আম নিন। হিমসাগর বেস্ট।

*টিপ ২:* ভাপানোর সময় বাটির ঢাকনা টাইট না হলে জল ঢুকে যাবে। ডাবল ফয়েল ইউজ করুন।

*টিপ ৩:* বেশি ভাপালে দই শক্ত হয়ে যাবে। ২০ মিনিট পর একটা টুথপিক ঢুকিয়ে দেখুন। ক্লিন বেরোলে নামিয়ে নিন।

*৫. স্টোর করবেন কীভাবে?*

ফ্রিজে এয়ারটাইট বক্সে ৩ দিন আরামসে থাকবে। তবে বানানোর পরের দিনই টেস্ট বেস্ট। কারণ আমের ফ্লেভারটা তখন পুরো সেট হয়।

*শেষ কথা:*

এই গরমে ভারী রান্নার পর পেট ঠান্ডা করতে এর থেকে ভালো মিষ্টি নেই। আর আমের সিজন তো বছরে একবারই আসে। তাই দেরি না করে আজই বানিয়ে ফেলুন। রেস্তোরাঁর বিল বাঁচান, আর বাড়ির লোকের কাছে পান ‘বেস্ট শেফ’-এর তকমা।

*বিঃদ্রঃ* ডায়াবেটিসের রোগীরা কনডেন্সড মিল্কের বদলে সুগার-ফ্রি ব্যবহার করুন এবং পরিমাণ বুঝে খান।