Honey Tips: বাজারের ব্র্যান্ডেড মধুতেও ৭০% পর্যন্ত চিনির সিরাপ মেশানো থাকছে। তাই ৫০০ টাকা দিয়ে ভেজাল কেন কিনবেন? রান্নাঘরের ৩টি জিনিস - চিনি, জল আর গুড় দিয়েই বানিয়ে নিন মধুর মতো দেখতে ও খেতে একদম ভেজালমুক্ত সিরাপ, যা চা, টোস্ট থেকে সর্দি-কাশিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

Honey Tips: শীতকাল এলেই মধুর খোঁজ শুরু। কিন্তু বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া এখন সোনার হরিণ। FSSAI-এর রিপোর্ট বলছে, অনেক নামী ব্র্যান্ডের মধুতেও চিনির সিরাপ, রং আর ফ্লেভার মেশানো থাকে। দাম বেশি, গুণ কম। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হল, বাড়িতেই ভেজালমুক্ত বিকল্প সিরাপ বানিয়ে নেওয়া। মনে রাখবেন, মৌমাছির আসল মধু বাড়িতে বানানো যায় না, এটা তারই মতো দেখতে ও খেতে একটি নিরাপদ, ঘরোয়া বিকল্প।

রান্নাঘরের ৩ জিনিস দিয়ে মধুর সিরাপ বানানোর ২টি সহজ পদ্ধতি:

প্রথম পদ্ধতি : চিনি, গুড় ও জল দিয়ে - সবচেয়ে জনপ্রিয়

এই পদ্ধতিতে রং ও ঘনত্ব একদম বাজারের মধুর মতো আসে।

উপকরণ:

১. ১ কাপ সাদা চিনি

২. ১/৪ কাপ আখের গুড় বা খেজুর গুড়

৩. ১ কাপ জল, ২-৩ ফোঁটা পাতিলেবুর রস আর ১ টা ছোট এলাচ

বানানোর পদ্ধতি: প্রথমে কড়াইতে জল ও চিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে বসান। চিনি গলে গেলে তার মধ্যে গুড়টা দিয়ে দিন। মিশ্রণ ফুটতে শুরু করলে ২ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে দিন, এতে পরে চিনি জমে দানা হয়ে যাবে না। এবার ৮ থেকে ১০ মিনিট মাঝারি আঁচে ফোটাতে থাকুন। হাতায় নিয়ে দেখবেন হালকা আঠালো ভাব এসেছে, এক তারের মতো লাগছে। তখনই নামিয়ে নিন, বেশি ঘন করবেন না কারণ ঠান্ডা হলে এটি আরও ঘন হয়ে মধুর মতো হয়ে যাবে। শেষে এলাচটা দিয়ে গন্ধের জন্য একটু নেড়ে ছেঁকে কাঁচের বোতলে ভরে রাখুন, এটি ২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি : মিছরি, তুলসী ও জল দিয়ে - সর্দি-কাশির জন্য উপকারী

এটা বাচ্চাদের ও বয়স্কদের জন্য বেশি উপকারী।

উপকরণ:

১. ১ কাপ মিছরি বা তালমিছরি

২. ১ কাপ জল

৩. ৪-৫ টা তুলসী পাতা আর ১ চা চামচ খাঁটি মধু

বানানোর পদ্ধতি: প্রথমে জল ও মিছরি একসঙ্গে কড়াইতে দিয়ে ফোটাতে শুরু করুন। মিছরি গলে গেলে এর মধ্যে তুলসী পাতা দিয়ে ৫ মিনিট ফোটান, এতে তুলসীর গুণ সিরাপে মিশে যাবে। এবার গ্যাস বন্ধ করে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। মনে রাখবেন, গরম অবস্থায় কখনও মধু দেবেন না, গুণ নষ্ট হয়ে যায়। ঠান্ডা হওয়ার পর ১ চামচ আসল মধু মিশিয়ে কাঁচের বোতলে ভরে নিন। সর্দি-কাশিতে গরম জলে এই সিরাপ দারুণ কাজ দেয়।

বাজারের মধু খাঁটি কিনা কীভাবে বুঝবেন?

১. জল পরীক্ষা: এক গ্লাস জলে এক চামচ মধু দিন। খাঁটি মধু সোজা তলায় চলে যাবে, জলে মিশবে না। ভেজাল মধু মিশে যাবে।

২. আঙুল পরীক্ষা: বুড়ো আঙুলে এক ফোঁটা মধু নিন। যদি গড়িয়ে পড়ে যায়, তাহলে ভেজাল। খাঁটি মধু আটকে থাকবে।

৩. কাগজ পরীক্ষা: সাদা কাগজে এক ফোঁটা মধু ফেলুন। ভেজাল হলে কাগজ ভিজে যাবে, খাঁটি হলে ভিজবে না।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।