বসন্ত এলেই লেপ-কম্বল, টুপি-জ্যাকেট আলমারিতে তোলার কাজ শুরু হবে। তবে যেমন-তেমন ভাবে সেগুলো আলমারিতে তুলে দিলে হবে না। 

যে কোনও শীতবস্ত্রই না কেচে আলমারিতে ঢোকানো যাবে না। একদিন পরলেও ওই পোশাক কেচেই আলমারিতে তুলতে হবে। উলের বস্ত্রে ঘাম, ময়লা জমে থাকে। ওই অবস্থায় আলমারিতে তুলতে পোশাক নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি আলমারিতে পোকামাকড় হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। ঠান্ডা কমে যাওয়ার পর আলমারিতে বা বক্সে শীতবস্ত্র (সোয়েটার, জ্যাকেট, লেপ-কম্বল) তুলে রাখার আগে অবশ্যই তা পরিষ্কার করে, কড়া রোদে শুকিয়ে রাখা প্রয়োজন। উলের কাপড় মৃদু ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে, ড্রাই ক্লিনিং করে এবং সুতির কাপড়ে মুড়িয়ে বা নেথলিন দিয়ে, আর্দ্রতামুক্ত শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করলে কাপড় দীর্ঘকাল ভালো থাকে।

শীতবস্ত্র সংরক্ষণের বিস্তারিত উপায়:

* পরিষ্কার ও শুষ্ককরণ: শীতের শেষে আলমারিতে তোলার আগে সব শীতের পোশাক অবশ্যই ধুয়ে বা ড্রাই ক্লিনিং করে নিন। নোংরা কাপড়ে পোকা লাগার বা দাগ পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

* রোদে দেওয়া: ধোয়ার পর কাপড় কড়া রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এতে আর্দ্রতা দূর হবে এবং ফাঙ্গাস বা ছত্রাক পড়বে না।

* সঠিক ধোয়া: উলের কাপড় বা সোয়েটার ধোয়ার জন্য মাইল্ড ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, ব্রাশ করবেন না।

সংরক্ষণ পদ্ধতি:

  • • breathable ব্যাগ: প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে সুতি বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
  • * বক্স বা আলমারি: পরিষ্কার, শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায় কাপড় রাখুন।
  • * নেথলিন বা নিমপাতা: পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে কাপড়ের ভাঁজে নেথলিন বল বা শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন।
  • * বিশেষ যত্নে: চামড়ার জ্যাকেট বা দামী পশমি পোশাক ড্রাই ক্লিনিং করাই শ্রেয়। কম্বল বা লেপ ভালোভাবে রোদে দিয়ে ধুলো ঝেড়ে, খবরের কাগজে মুড়িয়ে রাখুন।

* মাঝে মাঝে বাতাস দেওয়া: কয়েক মাস পর পর শীতের কাপড় বের করে রোদে দিন, এতে কাপড় সতেজ থাকে এবং গন্ধ হয় না।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার পছন্দের শীতের পোশাকগুলো পরবর্তী শীত পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে।