১৪টি দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি ভ্রমণকারীর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেল ভারতীয়দের কাছে ছুটির মানে বদলে গিয়েছে। ১০০০-এর বেশি ভারতীয় এই সমীক্ষায় জানিয়েছেন, এখন শুধু ঘুরতে যাওয়া নয়, মানসিক শান্তি, নমনীয়তা ও নিজেকে নতুন করে খোঁজাই হল আসল ছুটি।

১৪টি দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি ভ্রমণকারীর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেল ভারতীয়দের কাছে ছুটির মানে বদলে গিয়েছে। ১০০০-এর বেশি ভারতীয় এই সমীক্ষায় জানিয়েছেন, এখন শুধু ঘুরতে যাওয়া নয়, মানসিক শান্তি, নমনীয়তা ও নিজেকে নতুন করে খোঁজাই হল আসল ছুটি।

ছুটি মানেই ব্যাগ গুছিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া, হোটেলে থাকা আর দ্রষ্টব্য স্থানগুলো টিক মার্ক করা - এই ধারণা এখন অতীত। বিশ্বের ১৪টি দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি ভ্রমণকারীর ওপর চালানো এক বিশাল সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এক হাজারেরও বেশি ভারতীয়, আর সেই সমীক্ষাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভারতীয়দের কাছে এখন “নিখুঁত ছুটি”-র অর্থ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

আগে ছুটি মানে ছিল যত বেশি সম্ভব জায়গা ঘোরা, ছবি তোলা আর শপিং করা। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে মানুষের চিন্তাভাবনায় বিরাট পরিবর্তন এসেছে। সমীক্ষা বলছে, মানুষ এখন এমন অভিজ্ঞতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন যা একাধারে মানসিক শান্তি, নমনীয়তা এবং আত্ম-বিকাশের সুযোগ করে দেয়। অর্থাৎ, ছুটি এখন শুধু বাইরের জগৎ দেখা নয়, ভিতরের নিজেকেও নতুন করে আবিষ্কার করা।

ভারতীয়রা এখন কী চান? ৩টি বড় ট্রেন্ড

১. মানসিক শান্তি ও ডিটক্স ট্রিপ - লাক্সারির নতুন মানে: সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭০% এরও বেশি ভারতীয় জানিয়েছেন, তাঁরা ছুটিতে গিয়ে মানসিক শান্তি খোঁজেন। কাজের চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহল, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন সবাই। তাই পাঁচতারা হোটেলের বিলাসিতার চেয়ে এখন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পাহাড়ের কোলে যোগা রিট্রিট, হিমাচলের কোনও অফবিট গ্রামে হোমস্টে, জঙ্গলে নীরবতা পালন, বা সমুদ্রের ধারে ডিজিটাল ডিটক্স। যেখানে ফোন থাকবে না, থাকবে শুধু নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। এই ধরনের ‘স্লো ট্র্যাভেল’ এখন ভারতীয়দের প্রথম পছন্দ।

২. নমনীয়তা - বাঁধাধরা প্ল্যানকে না: কড়া ট্যুর প্ল্যান, সকাল ৬টায় বাস ধরার তাড়া, গাইডের পিছনে দৌড়ানো - এই ধরনের বেড়ানোয় আর আগ্রহ নেই ভারতীয়দের। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% ভারতীয় এখন ফ্লেক্সিবল ছুটি পছন্দ করছেন। অর্থাৎ, আজ এখানে ভালো লাগলে একদিন বেশি থাকা, কাল অন্য কোথাও চলে যাওয়া, নিজের ইচ্ছেমতো ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করা - এই স্বাধীনতাই হল নতুন লাক্সারি। ওয়ার্কেশন এবং লং স্টে ট্র্যাভেল এই কারণেই এত জনপ্রিয় হচ্ছে। মানুষ এখন এক জায়গায় ৩-৪ দিন থেকে সেখানকার মতো করে বাঁচতে চান, শুধু ছবি তুলে চলে আসতে চান না।

৩. আত্ম-বিকাশ - শুধু বেড়ানো নয়, নিজেকে খোঁজা: এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ছুটি এখন শুধু বিশ্রাম নয়, নিজেকে সমৃদ্ধ করার উপায়। সমীক্ষায় ৬০% ভারতীয় বলেছেন, তাঁরা ছুটিতে গিয়ে নতুন কিছু শিখতে চান। নতুন ভাষা শেখা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সংস্কৃতি জানা, কোনও নতুন স্কিল শেখা যেমন পাহাড়ে গিয়ে মৃৎশিল্প, রাজস্থানে গিয়ে ব্লক প্রিন্টিং, বা কেরলে গিয়ে আয়ুর্বেদ রান্না শেখা - এই ধরনের অভিজ্ঞতার চাহিদা বাড়ছে। মানুষ এখন আর শুধু তাজমহল দেখতে আগ্রা যায় না, তাজমহল তৈরির পিছনের ইতিহাস, সেখানকার কারিগরদের গল্পও জানতে চায়।

কেন এই বদল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিমারির পর মানুষ বুঝেছে জীবন কতটা অনিশ্চিত। তাই ছুটিকে শুধু খরচ হিসেবে না দেখে, নিজের ওপর বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানোর জন্য বেড়ানোর চেয়ে, নিজের জন্য বেড়ানোর মানসিকতা বাড়ছে।

এই সমীক্ষা স্পষ্ট বলছে, ভারতীয়রা এখন আর শুধু ট্যুরিস্ট হতে চান না, তাঁরা হতে চান ট্র্যাভেলার। যেখানে ছবি তোলার চেয়ে স্মৃতি তৈরি করা, আর জায়গা দেখার চেয়ে নিজেকে খুঁজে পাওয়া বেশি দামি।