ব্রেন স্ট্রোক মানেই কি শুধু বয়স্কদের রোগ? চিকিৎসকরা বলছেন, মোট স্ট্রোকের ১৩.৮% -ই এখন ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে হচ্ছে। অনিয়মিত ঘুম, স্ট্রেস, ফাস্ট ফুড, ধূমপান, মদ্যপানই তরুণদের রক্তচাপ বাড়িয়ে ডেকে আনছে স্ট্রোক।
স্ট্রোক কেবল বার্ধক্যের ব্যাধি নয়। ২০, ৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সিদের মধ্যেও আজকাল আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই রোগের প্রকোপ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট স্ট্রোক আক্রান্তদের প্রায় ১৩.৮ শতাংশেরই বয়স ৪৫ বছরের নীচে। চিকিৎসকদের মতে, এখন আর স্ট্রোক বার্ধক্যের রোগ নয়।
- জীবনযাত্রা: দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব, বসে বসে কাজ, জাঙ্ক ফুডে মেদবৃদ্ধি। - নেশা: ধূমপান ও মদ্যপান রক্তনালীকে সরু ও শক্ত করে দেয়। - স্ট্রেস ও ঘুম: অনিয়মিত ঘুম এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস তরুণদের রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের প্রধান কারণ। - অজান্তে থাকা রোগ: অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল আছে, কিন্তু নিয়মিত চেকআপ না করায় ধরা পড়ে না।
প্রাণ বাঁচাতে মনে রাখুন 'BE FAST'
স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লক্ষ মস্তিষ্ক কোষ নষ্ট হয়। তাই দ্রুত চেনা সবচেয়ে জরুরি। BE FAST হল সেই ৬টি লক্ষণ চেনার সহজ ট্রিকস:
B - Balance (ভারসাম্য): হঠাৎ করে হাঁটতে গিয়ে টলে পড়া, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
E - Eyes (চোখ): হঠাৎ এক চোখে বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা, একটি জিনিস দুটো দেখা বা দৃষ্টি চলে যাওয়া।
F - Face (মুখ): রোগীকে হাসতে বলুন। দেখবেন মুখের একদিক বেঁকে যাচ্ছে, একদিক ঝুলে পড়ছে।
A - Arm (হাত): দু হাত সামনে তুলতে বলুন। একটি হাত তুলতে পারবে না, বা তুলেও ধরে রাখতে না পেরে নিচে পড়ে যাবে।
S - Speech (কথা): কথা জড়িয়ে যাওয়া, তোতলানো, বা অন্যের কথা বুঝতে না পারা। একটি সহজ বাক্য বলতে বলুন, যেমন "আজ আকাশ পরিষ্কার"।
T - Time (সময়): এই লক্ষণগুলির মধ্যে একটিও দেখলে এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের চিকিৎসার 'গোল্ডেন টাইম' হল সাড়ে ৪ ঘণ্টা।
কী করবেন না? রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন না, জল বা খাবার খাওয়াবেন না, এবং নিজে ডাক্তারি করে ওষুধ দেবেন না।
তরুণ বয়স থেকেই রক্তচাপ, সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ধূমপান ছাড়ুন, রোজ ৩০ মিনিট হাঁটুন। আর BE FAST মনে রাখুন, কারণ আপনার সচেতনতাই বাঁচাতে পারে কাছের মানুষের প্রাণ।






