দিনভর ল্যাপটপ-মোবাইলে টাইপ করেই চলেছি আমরা, হাতে কলম ধরাই হয় না। কিন্তু জানেন কি, এতে আপনার ব্রেনের ক্ষতি হচ্ছে? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে টাইপিং ব্রেনকে অলস করে দিচ্ছে, আর হাতে লেখা ব্রেনকে করছে বেশি সক্রিয়।

আপনি শেষ কবে একটা গোটা পাতা হাতে লিখেছেন মনে আছে? এখন তো সবকিছুই টাইপিং। অফিসের নোট, বাজারের লিস্ট, এমনকি ডায়েরিও মোবাইলে। সুবিধা অনেক, কিন্তু এর দাম দিচ্ছে আমাদের ব্রেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, টাইপিং আমাদের ফাস্ট বানাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু স্মার্ট বানাচ্ছে হাতে লেখা।

ব্রেনের জন্য কেন হাতে লেখা সেরা?

১. স্মৃতিশক্তি বাড়ে ৩০% বেশি: নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা দেখেছেন, হাতে লেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কের অনেক বেশি অংশ সক্রিয় হয়। আঙুলের চাপ, কলমের ঘষা, অক্ষরের আকার - সব মিলে ব্রেনে একটা গভীর 'মেমোরি প্রিন্ট' তৈরি হয়। তাই টাইপ করা নোটের চেয়ে হাতে লেখা নোট ২৫-৩০% বেশি মনে থাকে। পরীক্ষার আগে তাই হাতে লিখে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. শেখা হয় গভীরভাবে: যখন আপনি 'ক' লেখেন, আপনার ব্রেন প্রথমে তার আকৃতি কল্পনা করে, তারপর হাতের পেশীকে নির্দেশ দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্রেনের মোটর কর্টেক্স, ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স এবং মেমোরি সেন্টার একসঙ্গে কাজ করে। টাইপিংয়ে শুধু একটা কি-তে চাপ দিলেই হলো, ব্রেনকে এত পরিশ্রম করতে হয় না। তাই বাচ্চাদের হাতে লেখা শেখানো ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

৩. ক্রিয়েটিভিটি ও মানসিক শান্তি: হাতে লেখার গতি টাইপিংয়ের চেয়ে কম। এই ধীর গতিটাই আসলে আশীর্বাদ। এটি ব্রেনকে ভাবার, নতুন আইডিয়া তৈরি করার সময় দেয়। তাই অনেক লেখক, বিজ্ঞানী এখনও প্রথম ড্রাফট হাতেই লেখেন। এছাড়া জার্নাল লেখা বা ডায়েরি লেখা স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি কমাতে দারুণ কাজ করে।

তাহলে কি টাইপিং ছেড়ে দেবেন?

একদমই না। টাইপিংয়েরও দারুণ উপকারিতা আছে। এটি আমাদের তথ্য দ্রুত প্রসেস করতে, মাল্টিটাস্কিং করতে এবং ব্রেন-আই-হ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন বাড়াতে সাহায্য করে। বড় রিপোর্ট, ইমেল বা দ্রুত নোট নেওয়ার জন্য টাইপিং-ই সেরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?

দুটোর মধ্যে ব্যালেন্স রাখুন। ফর্মুলাটা হলো - Learn by Hand, Work by Type.

- নতুন কিছু শিখতে, মনে রাখতে, বা মাথা হালকা করতে হাতে লিখুন। - প্রফেশনাল কাজ, বড় লেখা বা দ্রুত যোগাযোগের জন্য টাইপ করুন।

তাই আজ থেকেই দিনে অন্তত ১৫ মিনিট খাতা-কলম নিয়ে বসুন। আপনার ব্রেন আপনাকে থ্যাঙ্ক ইউ বলবে।