Santiniketan Tourism: রোজকার যানজট আর কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছেন? মন খুঁজছে একটু শান্তি? তাহলে ইট-কাঠের খাঁচা ছেড়ে একটা উইকেন্ড কাটিয়ে আসুন লাল মাটির দেশ শান্তিনিকেতনে। কলকাতা থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার দূরত্বে রবি ঠাকুরের এই স্বপ্নের শহরে রয়েছে সোনাঝুরির জঙ্গল, কোপাই নদী আর বাউল গানের মায়াজাল। রইল কম খরচে শান্তিনিকেতন ঘোরার সম্পূর্ণ গাইড।
Santiniketan Travel: ইট-কাঠ-কংক্রিটের শহরে দম বন্ধ হয়ে আসছে? সপ্তাহের শেষে একটু প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে চান? তাহলে চলুন, যেখানে মাটি আজও লাল, আকাশ আজও নীল, আর বাতাসে ভাসে রবি ঠাকুরের গান। হ্যাঁ শান্তিনিকেতনের কথাই বলছি। কলকাতা থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার দূরত্বে এক টুকরো শান্তির স্বর্গ।
কীভাবে যাবেন?
শান্তিনিকেতন যাওয়া এখন জলভাত।
ট্রেনে: হাওড়া থেকে সকালের শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত বা গণদেবতা এক্সপ্রেস ধরুন। মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় আপনাকে নামিয়ে দেবে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনে। স্টেশন থেকে টোটোতে ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন আপনার ঠিকানায়।
গাড়িতে: সড়কপথে যেতে চাইলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পানাগড়-ইলামবাজার হয়ে সোজা শান্তিনিকেতন। রাস্তা মাখনের মতো মসৃণ।
শান্তিনিকেতনে গিয়ে কী কী দেখবেন?
শান্তিনিকেতন মানে শুধু একটা জায়গা নয়, এটা একটা অনুভূতি।
১. সোনাঝুরির শনিবারের হাট - প্রাণের মেলা: এখানে না গেলে আপনার ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। শাল-সোনাঝুরির জঙ্গলের মাঝে খোলা আকাশের নিচে বসে এই হাট। একদিকে মাদলের তালে ধামসা-মাদলের নাচ, অন্যদিকে বাউলের একতারায় মাটির গান। আর চারপাশে ছড়িয়ে আছে হাতে বানানো পোড়ামাটির গয়না, কাঁথা স্টিচের শাড়ি, ডোকরার শিল্প। হাট এখন শনিবার ছাড়াও রোজই বসে।
২. কোপাই নদীর ধারে এক বিকেল: "আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে..." - রবি ঠাকুরের সেই কোপাই। বর্ষায় ভরা থাকলেও শীতে হাঁটুজল। নদীর পাড়ে বসে লাল মাটির উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, সূর্যাস্ত দেখা - মন ভালো করার জন্য এর চেয়ে ভালো ওষুধ আর নেই।
৩. বিশ্বভারতীর স্মৃতি ও সৃজনী শিল্পগ্রাম: ছাতিমতলা, উপাসনা গৃহ, কলাভবন - রবি ঠাকুরের গড়া প্রতিটি কোণে ইতিহাস কথা বলে। যদিও এখন ভিতরে প্রবেশ বন্ধ, বাইরে থেকেও এর শান্ত স্নিগ্ধ রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিকে একসঙ্গে দেখতে হলে ঘুরে আসুন সৃজনী শিল্পগ্রাম থেকে।
৪. কঙ্কালীতলা ও সুরুল রাজবাড়ি: হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ৫১ সতীপীঠের শেষ পীঠ কঙ্কালীতলা মন্দির থেকে। আর ইতিহাস ভালোবাসলে ৩০০ বছরের পুরনো সুরুল রাজবাড়ির টেরাকোটার কাজ আপনাকে অবাক করবেই।
থাকা-খাওয়া ও খরচ:
বোলপুরে এখন সব বাজেটের হোটেল, রিসর্ট আর বুটিক হোমস্টে আছে। ৮০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে ভালো থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন। খাওয়ার জন্য বিখ্যাত রাম-শ্যাম ভিলেজ রিসর্ট, বনলক্ষ্মী বা ঘরোয়া হেঁশেল তো আছেই।
দু'জনের ১ রাত ২ দিনের এই ছোট্ট ছুটির জন্য জনপ্রতি ৩০০০-৪০০০ টাকা খরচ করলেই রাজার মতো ঘুরে আসতে পারবেন।
তাহলে আর ভাবছেন কী? এই উইকেন্ডেই লাল ধুলো মাখতে বেরিয়ে পড়ুন শান্তিনিকেতনের পথে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


