বাজারের ৯০% কলাই কার্বাইড দিয়ে পাকানো। খেলে ক্যান্সার থেকে পেটের রোগ সব হতে পারে। কিন্তু ডাঁটি আর খোসা দেখলেই বুঝে যাবেন কোনটা আসল গাছপাকা।

সস্তায় কলা, কিন্তু সেটা বিষ না তো? সকালের ব্রেকফাস্টে ২টো কলা। বাচ্চার টিফিনেও কলা। আমরা সবাই ভাবি এটা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ফল। কিন্তু বাস্তবটা একদম আলাদা।

আজকাল বাজারে যে ৯০% কলা বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই গাছে পাকে না। ব্যবসায়ীরা কাঁচা কলা গাছ থেকে নামিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় কার্বাইড আর ইথিলিন গ্যাস দিয়ে পাকিয়ে দেয়। দেখতে সুন্দর হলুদ লাগলেও এর ভিতরে লুকিয়ে থাকে বিষ।

এই কেমিক্যাল কলা নিয়মিত খেলে পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, লিভার-কিডনির সমস্যা এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বাইরে থেকে দুটো কলাকে আলাদা করা যায় না। তাই টাকা দিয়ে বিষ না কিনতে চাইলে ডাঁটি, খোসা আর গন্ধ দেখেই আপনাকে আসল-নকল চিনতে হবে।

ডাঁটিই বলে দেবে আসল-নকল :

কলা কেনার সময় সবার আগে কাঁদির ডাঁটিটা ভালো করে দেখুন। এটাই সবচেয়ে সহজ টেস্ট।

যদি কলা গাছপাকা হয়, তাহলে ডাঁটিটা হবে কালচে খয়েরি বা কালো রঙের। একটু শুকনো আর কুঁচকানো থাকবে। কারণ কলা অনেকদিন গাছে ঝুলে স্বাভাবিক ভাবে পেকেছে।

আর যদি কলা কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয়, তাহলে ডাঁটিটা হবে সবুজ বা হালকা হলুদ। একদম টাটকা আর টসটসে লাগবে। কারণ এগুলো কাঁচা অবস্থায় নামিয়ে ১ রাতে গ্যাস দিয়ে পাকানো হয়েছে। তাই ডাঁটির বয়স বাড়ার সময়ই পায়নি।

খোসার রং আর দাগ দেখেই ধরা পড়ে যাবে:

ডাঁটি দেখার পর এবার খোসাটা দেখুন। গাছপাকা কলার খোসার রং হবে হালকা হলুদ। তার গায়ে ছোট ছোট কালো-বাদামি দাগ থাকবে। একে "Sugar Spots" বলে। এই দাগ মানেই কলা ভিতর থেকে নরম, রসালো আর মিষ্টি। খোসাও তুলনায় পাতলা হবে।

অন্যদিকে কেমিক্যাল কলা দেখতে হবে উজ্জ্বল, চকচকে হলুদ। একদম দোকানে সাজিয়ে রাখার মতো। কিন্তু গায়ে একটাও দাগ থাকবে না। খোসা হবে মোটা আর শক্ত। কারণ ভিতরটা এখনো কাঁচা, শুধু বাইরেটা রং দিয়ে হলুদ করা হয়েছে।

নাক আর জিভই শেষ বিচারক :

সবশেষে গন্ধটা শুঁকে দেখুন। গাছপাকা কলার কাঁদির কাছে নাক নিয়ে গেলেই একটা মিষ্টি গন্ধ পাবেন। খেতেও হবে নরম আর স্বাদে ভরপুর।

কিন্তু কেমিক্যাল কলার কোনো গন্ধই নেই। খেলে মনে হবে ভিতরটা কাঁচা-কাঁচা। অনেক সময় জিভে একটু ঝাঁঝ বা তেতো ভাবও লাগে। এটা কার্বাইডের জন্যই হয়।

এই বিষাক্ত কলা খেলে শরীরে কী হয়?

কার্বাইডে থাকে আর্সেনিক আর ফসফরাসের মতো মারাত্মক কেমিক্যাল। এগুলো রোজ শরীরে গেলে প্রথমে ডায়েরিয়া, বমি, আলসারের মতো পেটের রোগ দেখা দেয়। তারপর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় লিভার আর কিডনির। লং টার্মে নার্ভের সমস্যা এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। বাচ্চা আর বয়স্কদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

১০ টাকা বেশি দিন, কিন্তু স্বাস্থ্য কিনুন:

তাই পরের বার বাজার থেকে কলা কেনার সময় এই ৩টে জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন। কালো ডাঁটি, দাগ যুক্ত খোসা, মিষ্টি গন্ধ।

হ্যাঁ, গাছপাকা কলার দাম একটু বেশি হতে পারে। কিন্তু ওই ১০-২০ টাকা বেশি দিয়ে আপনি বিষ কিনছেন না, নিজের আর পরিবারের স্বাস্থ্য কিনছেন।