বর্ষায় ডেঙ্গু, ভাইরাল জ্বর আর ইনফেকশন বাড়ছে। স্কুল থেকে ফেরার পর বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। মায়েরা এই কয়েকটি কাজ না করলেই চরম ক্ষতি হতে পারে।

বর্ষা মানেই আনন্দ, আবার আতঙ্কও। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। পুডিং, পকোড়া আর ছুটির আমেজ। কিন্তু এই বর্ষার আড়ালেই লুকিয়ে আছে চরম বিপদ।

বিশেষ করে যাদের স্কুলে যাওয়া ছোট সন্তান আছে। স্কুল বাস, ভেজা বেঞ্চ, ক্লাসরুমের ফ্যান - সব জায়গাতেই এখন জীবাণুর আড্ডা।

ডাক্তাররা বলছেন, বর্ষায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭০% শিশুই স্কুল থেকে কোনো না কোনো ইনফেকশন নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

তাই মায়েরা, সন্তান স্কুল থেকে ফেরার পর এই ৫টি কাজ একদম ভুলবেন না। ১০ মিনিটের অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় ক্ষতি।

স্কুল থেকে ফেরার পরই করুন এই ৫টি কাজ:

১. জুতো-ব্যাগ দরজার বাইরেই রাখুন, ঘরে নয়

স্কুলের জুতো আর ব্যাগের তলায় কাদা, নোংরা জল আর হাজারো ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকে।

এগুলো সোজা ঘরে এনে সোফায় বা বিছানায় রাখা উচিত নয়।

দরজার বাইরে একটা আলাদা তাকে রাখুন। বাড়িতে ঢোকার মুখেই জীবাণুকে আটকে দিন।

২. ফেরার ৫ মিনিটের মধ্যে হাত-পা-মুখ ধোয়ান

বাসের রড, ক্লাসের বেঞ্চ, টিফিন বক্স - সব ছুঁয়ে আসে ওরা।

বাড়ি ঢুকেই প্রথমে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ান। তারপর পা আর মুখ ভালো করে ধুয়ে মুছে দিন।

এই একটা কাজই ৮০% ভাইরাল জ্বর আটকে দেবে।

৩. ভেজা জামা-মোজা ১ সেকেন্ডও গায়ে রাখবেন না

বৃষ্টিতে ভিজে ফিরেছে? তাহলে তো কথাই নেই।

ভেজা জামা শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া হওয়ার চান্স ৩ গুণ বেড়ে যায়।

বাড়িতে ঢুকেই গরম জলে গা মুছিয়ে শুকনো জামা পরিয়ে দিন। আর এক কাপ আদা-তুলসী চা দিন।

৪. টিফিন বক্স আর জলের বোতল গরম জলে ধুয়ে নিন

বাচ্চারা টিফিন অর্ধেক খেয়ে বক্স ব্যাগে রেখে দেয়। ৬-৭ ঘণ্টা ওই বদ্ধ বক্সে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তাই স্কুল থেকে ফিরেই বক্স আর বোতল গরম জল আর লিকুইড দিয়ে 9ধুয়ে রোদে শুকোতে দিন। পরের দিন আবার ব্যবহার করুন।

৫. সন্ধ্যায় একবার জ্বর আর শরীর চেক করুন :

বর্ষায় জ্বর খুব দ্রুত আসে। সকালে কিছু নেই, রাতেই ১০২।

স্কুল থেকে ফেরার পর আর রাতে শোওয়ার আগে বাচ্চার কপাল, গা হাত দিয়ে দেখুন। গায়ে র‍্যাশ, চোখ লাল, পেটের ব্যথা আছে কিনা খেয়াল করুন। প্রথম দিনেই ধরতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো যায়।

বাড়তি ২টি "সুপার টিপস" যা বর্ষায় বাঁচাবে:

১. নাক-মুখে নুন জলের ভাপ: রোজ রাতে শোওয়ার আগে ৫ মিনিট নুন জলের গরম ভাপ দিন। এটা গলার জীবাণু মেরে দেয়।

২. জুতোয় অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার: স্কুলের জুতোর মধ্যে ফাঙ্গাস হয়ে পায়ে ঘা হতে পারে। তাই রোজ রাতে পাউডার ছড়িয়ে রাখুন।

কোন লক্ষণ দেখলে একদম দেরি করবেন না?

যদি দেখেন বাচ্চার -

১. ১০০-র বেশি জ্বর ৩ দিনের বেশি

২. পেটে ব্যথা আর বারবার বমি

৩. শরীরে লাল লাল র‍্যাশ

৪. চোখ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া

তাহলে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যান। এগুলো ডেঙ্গু বা ভাইরালের লক্ষণ হতে পারে।

বর্ষা উপভোগ করুন, কিন্তু সতর্ক থাকুন। আপনার ১০ মিনিটের যত্ন আপনার সন্তানকে হাসপাতালের বেড থেকে বাঁচাতে পারে।

মনে রাখবেন, "Prevention is better than cure"। বিশেষ করে বর্ষায়।