মিক্সির ব্লেড ভোঁতা হয়ে গেলে শুধু মশলাই ভালো করে পেষা যায় না, মোটরের উপরেও চাপ পড়ে। নতুন ব্লেডের সেট কিনতে ৫০-১০ টাকা খরচ। কিন্তু সেই খরচের দরকারই নেই।
মিক্সি ছাড়া আজকের রান্নাঘর অচল। কিন্তু কয়েক মাস ব্যবহারের পরেই শুরু হয় আসল ঝামেলা। আদা-রসুন থেঁতো হয় না, গরম মশলা দানা থেকে যায়, পেঁয়াজ বাটা পেস্ট হয় না। মিস্ত্রি ডাকলে সোজা কথা "ব্লেড পাল্টে নিন"। অথচ ব্লেডের দাম ৫০ টাকা, সাথে ফিটিং চার্জ।

চিন্তা নেই। নতুন ব্লেড কেনার আগে ঘরের এই ৩টি জিনিস দিয়ে একবার ট্রাই করুন। খরচ প্রায় শূন্য, অথচ রেজাল্ট চমকে যাওয়ার মতো।
শুরু করুন মোটা নুন আর বরফ দিয়ে। মিক্সির ছোট জারে ৩ থেকে ৪ চামচ মোটা দানার সাদা নুন নিন। সাথে ফ্রিজ থেকে ৪-৫ টুকরো বরফ দিয়ে দিন। এবার ঢাকনা বন্ধ করে মিক্সি ফুল স্পিডে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড চালান। নুনের দানাগুলো ব্লেডের সাথে ঘষা খেয়ে ভোঁতা অংশ তুলে দেবে। আর বরফ গলে গিয়ে ব্লেডে লেগে থাকা তেল-মশলার আস্তরণও পরিষ্কার করে দেবে। কাজ হয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে উল্টে শুকিয়ে নিন। এই কাজটা সপ্তাহে একবার করলে ব্লেড বছরের পর বছর ধারালো থাকবে। প্লাস, মোটরের উপরেও চাপ কম পড়বে।
এরপর আসে ডিমের খোসা। সকালে অমলেট বা কেক বানানোর পর যে ডিমের খোসা ফেলে দেন, সেটাই কাজে লাগবে। ৫ থেকে ৬টা শুকনো ডিমের খোসা মিক্সির জারে দিয়ে ২০ সেকেন্ড ঘোরান। খোসা একদম মিহি গুঁড়ো হয়ে যাবে। এই শক্ত খোসা ব্লেডের সাথে ঘষা খেয়ে ধার বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে ভালো দিক হল, এই গুঁড়ো ফেলবেন না। টবের গাছে দিয়ে দিন। ক্যালসিয়ামের দারুণ সার। মানে ব্লেডও ধারালো হল, গাছেরও খাবার হল।
তৃতীয় টোটকাটা সবচেয়ে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। সেটা হল অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। রুটি বা খাবার ঢাকার যে ফয়েল পেপার বাড়িতে থাকে, সেখান থেকে একটা টুকরো ৪-৫ বার ভাঁজ করে ছোট বল বানিয়ে নিন। সেই বলটা মিক্সিতে দিয়ে ২০ সেকেন্ড চালিয়ে দিন। ফয়েল আর ব্লেডের মধ্যে যে ঘর্ষণ হয় তাতেই ব্লেডের ধার ফিরে আসে। ছুরি, কাঁচি, এমনকি কিচেনের গ্রেটার ধারালো করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
তবে শুধু ধারালো করলেই হবে না, ব্লেড যাতে তাড়াতাড়ি নষ্ট না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। অনেকেই খালি জার মিক্সিতে চালিয়ে দেন। এটা করবেন না। ব্লেডে কিছু না থাকলে মোটর আর ব্লেড দুটোই তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। আবার হলুদ, দারচিনি বা শক্ত গরম মশলা গুঁড়ো করার সময় একবারে বড় টুকরো দেবেন না। ছোট করে ভেঙে অল্প অল্প করে দিন। তাহলে ব্লেডের উপর চাপ কম পড়বে।
মাসে দুইবার এই ৩টি টোটকার যেকোনো একটি করুন। দেখবেন মিক্সি নতুন কেনার মতো স্পিডে চলছে। মশলা মিহি হচ্ছে, সময় বাঁচছে আর কারেন্ট বিলও কম আসছে। কারণ ভোঁতা ব্লেডকে ঘোরাতে মোটরকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।
তাই পরের বার মিক্সি আস্তে চললে বা মশলা ভালো করে না পিষলে দোকানে দৌড়বেন না। আগে রান্নাঘরের কৌটো থেকে নুনের কৌটোটা বের করুন। ২ মিনিটের এই খেলাতেই আপনার মিক্সি আবার নতুন হয়ে যাবে।