বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমোনোর সময় যদি কয়েকটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে ঘুমানো হয় তাহলে আপনার শরীরের বিভিন্ন রকম লুকিয়ে থাকা রোগ সেরে যেতে পারে।
অনেক দীর্ঘ দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত মলত্যাগের সমস্যায় ভোগেন। কোষ্ঠকাঠিন্যে অনেকেই সপ্তাহে তিন বারের বেশি মলত্যাগ করতে পারেন না। আপনারও যদি এমন সমস্যা হয়, তাহলে বিশেষ কায়দায় ঘুমোতে পারেন। সেরে যেতে পারে এই সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানো (Sleep Posture) কেবল আরামদায়ক ঘুমই নিশ্চিত করে না, বরং হজমশক্তি বৃদ্ধি, পিঠ/ঘাড় ব্যথা উপশম এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে । বাম দিকে ফিরে শোয়া, পিঠের নিচে বালিশ ব্যবহার, বা উচ্চ রক্তচাপের জন্য উপযুক্ত ভঙ্গিতে শোয়া শরীরের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে সহায়ক।
এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা:
* বাম দিকে ফিরে শোয়া (Left Side Sleeping): চিকিৎসকরা প্রায়শই বাম দিকে ফিরে শোয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের হজমের সমস্যা বা বুকজ্বালা (Acid Reflux) আছে। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডকে ওপরের দিকে আসতে বাধা দেয় এবং হজমপ্রক্রিয়া ভালো রাখে।
* পিঠের ওপর ভর দিয়ে শোয়া (Back Sleeping): মেরুদণ্ড, ঘাড় এবং পিঠের ব্যথার জন্য এটি সেরা ভঙ্গি, কারণ এটি শরীরের ওজন সমানভাবে বিতরণ করে। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বজায় থাকে।
* হাঁটুর নিচে বালিশ: পিঠে বা কোমর ব্যথার রোগীরা যদি পিঠের ওপর শুয়ে হাঁটুর নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখেন, তবে কোমরের ওপর চাপ কমে এবং ব্যথা উপশম হয়।
* ঘাড় ব্যথার জন্য সঠিক বালিশ: খুব উঁচু বা খুব নিচু বালিশ ব্যবহার করা উচিত নয়। বালিশ এমন হওয়া উচিত যা ঘাড় এবং মেরুদণ্ডকে সোজা লাইনে রাখে, এটি ঘাড়ের পেশীর চাপ কমায়।
* স্লিপ অ্যাপনিয়া বা নাক ডাকার সমস্যা: যারা অতিরিক্ত নাক ডাকেন, তাদের জন্য চিত হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে শোয়া বেশি কার্যকরী, কারণ এটি শ্বাসপথ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: পেটের ওপর ভর দিয়ে শোয়া (Stomach Sleeping) বিশেষজ্ঞগণ সাধারণত বর্জন করতে বলেন, কারণ এটি মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। সঠিক ভঙ্গি মেনে চললে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


