গরমে তেল-মশলা খেতে ইচ্ছে না করলে বানিয়ে ফেলুন কাঁচা আম দিয়ে কাতলা মাছের পাতলা টক ঝোল। কাঁচা আমের টক, কাঁচা লঙ্কার ঝাল আর কালো জিরে ফোড়নের গন্ধে এই ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে। হালকা করে ভাজা কাতলা মাছ, আমের ফালি, সামান্য চিনি দিয়ে টক-মিষ্টি ব্যালান্স করা হয়। হজমেও সাহায্য করে, আর মুখের মরে যাওয়া স্বাদ ফিরিয়ে আনে। মাত্র 30 মিনিটেই রেডি।
গরমে তেল-মশলা খেতে ইচ্ছে না করলে বানিয়ে ফেলুন কাঁচা আম দিয়ে কাতলা মাছের পাতলা টক ঝোল। কাঁচা আমের টক, কাঁচা লঙ্কার ঝাল আর কালো জিরে ফোড়নের গন্ধে এই ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে। হালকা করে ভাজা কাতলা মাছ, আমের ফালি, সামান্য চিনি দিয়ে টক-মিষ্টি ব্যালান্স করা হয়। হজমেও সাহায্য করে, আর মুখের মরে যাওয়া স্বাদ ফিরিয়ে আনে। মাত্র 30 মিনিটেই রেডি।

মাছের জন্য উপকরণ:
১. কাতলা মাছ – 500 গ্রাম, 6-8 পিস করে কাটা
২. নুন – 1 চামচ
৩. হলুদ গুঁড়ো – 1/2 চামচ
৪. সর্ষের তেল – 4 টেবিল চামচ, ভাজার জন্য
ঝোলের জন্য:
১. কাঁচা আম – 1টা মাঝারি, প্রায় 150 গ্রাম। টক আম নেবেন, জল কম।
২. সর্ষের তেল – 2 টেবিল চামচ
৩. শুকনো লঙ্কা – 2টো
৪. কালো জিরে – 1/2 চামচ
৫. হলুদ গুঁড়ো – 1/2 চামচ
৬. নুন – স্বাদমতো, প্রায় 1 চামচ
৭. চিনি – 1 চামচ, টক ব্যালান্স করার জন্য
৮. কাঁচা লঙ্কা – 4-5টা, মাঝখান থেকে চেরা
৯. গরম জল – 2.5 কাপ, প্রায় 600 মিলি
১০. ধনেপাতা কুচি – 2 টেবিল চামচ, নামানোর জন্য
প্রণালী / রান্নার পদ্ধতি:
ধাপ 1: মাছ ভাজা
প্রথমে মাছের পিসগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। নুন আর হলুদ মাখিয়ে 5 মিনিট রাখুন। কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে ধোঁয়া উঠলে আঁচ কমিয়ে মাছগুলো দিন। দু’পিঠ হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। মনে রাখবেন, এই রান্নায় মাছ কড়া করে ভাজবেন না। হালকা ভাজলে ঝোলের টকটা মাছের ভেতরে ঢুকবে।
ধাপ 2: আম রেডি করা
কাঁচা আম ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার লম্বা লম্বা মোটা ফালি করে কেটে নিন। চাইলে ডুমো করেও কাটতে পারেন। বীজের অংশটা বাদ দেবেন।
ধাপ 3: ঝোল বানানো
মাছ ভাজার তেলেই রান্না করুন, স্বাদ ভালো হবে। তেল কম থাকলে আরও 2 চামচ সর্ষের তেল দিন। তেল গরম হলে শুকনো লঙ্কা আর কালো জিরে ফোড়ন দিন। 10 সেকেন্ড নাড়ুন, কালো জিরে পুড়ে যেন না যায়।
এবার কেটে রাখা আমের ফালিগুলো দিয়ে দিন। সাথে দিন হলুদ গুঁড়ো, নুন আর চিনি। মিডিয়াম আঁচে 2-3 মিনিট নাড়াচাড়া করুন। আমটা একটু নরম হবে আর নুন-চিনি মাখামাখি হবে। চিনি দিলে আমের কড়া টকটা কেটে যায়, একটা টক-মিষ্টি স্বাদ আসে।
ধাপ 4: জল ও মাছ দেওয়া
এবার কড়াইতে 2.5 কাপ গরম জল ঢেলে দিন। ঠান্ডা জল দিলে ঝোলের স্বাদ নষ্ট হয়। ঝোল টগবগ করে ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছের পিসগুলো সাবধানে ছেড়ে দিন। ওপর থেকে চেরা কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিন।
ধাপ 5: শেষ টাচ
আঁচ মিডিয়াম করে ঢাকা দিয়ে 6-7 মিনিট রান্না করুন। মাঝে একবার আলতো করে নেড়ে দেবেন যাতে মাছ না ভাঙে। মাছ সেদ্ধ হয়ে গেলে আর আম নরম হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করুন। ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে 5 মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। এতে ধনেপাতার গন্ধটা ঝোলে মিশে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
১. আম বাছাই: খুব কচি আম নেবেন না, জল ছেড়ে দেবে। আবার খুব পাকা আমও নয়। মাঝারি, টক আম বেস্ট।
২. টকের পরিমাণ: আম যদি খুব টক হয়, চিনি 1.5 চামচ দিন। কম টক হলে চিনি স্কিপ করতে পারেন।
৩. ঝোলের ঘনত্ব: এই ঝোল পাতলাই ভালো লাগে। ঘন করতে চাইলে নামানোর আগে 1 চামচ চালের গুঁড়ো জলে গুলে মিশিয়ে একবার ফুটিয়ে নিন।
৪. মাছ: কাতলার পেটির পিস দিয়ে সবচেয়ে ভালো হয়। রুই, ভেটকি দিয়েও করতে পারেন।
কী দিয়ে খাবেন: গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে প্রথম পাতে এই টক ঝোল। সঙ্গে একটা আলু ভাজা বা বেগুন ভাজা। গরমে অমৃত লাগবে।


