নতুন সম্পর্কের শুরুতে ছোট ছোট ইঙ্গিত আমরা অনেক সময় ভুল বুঝি। কেউ খুব দ্রুত "I love you" বলা, ২৪ ঘণ্টা খবর নেওয়া— এগুলোকে ভালোবাসা ভাবলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। 

নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলা, ঘন ঘন দেখা করা, ভবিষ্যতের প্ল্যান— সম্পর্কের শুরুটা সবসময়ই রঙিন লাগে। কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, এই শুরুর দিকের কিছু "মিষ্টি" ইঙ্গিতের অর্থ সবসময় ভালোবাসা নাও হতে পারে। "তুমি ছাড়া থাকতে পারব না", "রোজ সকালে-রাতে কল চাই", "চলো আগামী বছর বিয়ে করে নিই" — সম্পর্কের প্রথম ২-৩ মাসে এই কথাগুলো শুনলে মন ভরে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থামুন। সব চকচকে জিনিস সোনা নয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিল্লির ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. নম্রতা জৈন বলেন, “শুরুর ৩ মাসকে বলা হয় ‘হানিমুন ফেজ’। এই সময় ব্রেনে ডোপামিন বেশি ক্ষরণ হয়। তাই আমরা লজিকের বদলে ইমোশন দিয়ে সব বিচার করি। আর এই সুযোগেই কিছু রেড ফ্ল্যাগকে আমরা গ্রিন ফ্ল্যাগ ভেবে বসি।”

১. খুব তাড়াতাড়ি ‘I love you’ বলা আমরা যা ভাবি: সে সত্যিই আমাকে গভীরভাবে ভালোবাসে। বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: এটা ‘লাভ বম্বিং’ হতে পারে। সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত প্রশংসা, উপহার, "তুমি ছাড়া বাঁচব না"— এই ধরনের কথা বলে সামনের মানুষটিকে ইমোশনালি ডিপেন্ডেন্ট করে তোলা হয়। পরে কন্ট্রোল করা সহজ হয়। কী করবেন: সময় দিন। সত্যিকারের ভালোবাসা তাড়াহুড়ো করে না।

২. ২৪ ঘণ্টা খবর নেওয়া, প্রতি মিনিটে মেসেজ আমরা যা ভাবি: উফ, কী কেয়ারিং! বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: এটা কেয়ার নয়, এটা ‘পজেসিভনেস’-এর শুরু। কোথায় যাচ্ছ, কার সাথে আছ, কেন রিপ্লাই দেরি— এই প্রশ্নগুলো বাড়তে থাকলে বুঝবেন এটা নিরাপত্তাহীনতা থেকে আসছে। কী করবেন: নিজের স্পেস আছে কিনা দেখুন। সুস্থ সম্পর্কে দুজনেই স্বাধীন থাকেন।

৩. খুব তাড়াতাড়ি ভবিষ্যতের প্ল্যান করা আমরা যা ভাবি: সিরিয়াস, তাই বিয়ের কথা, বাড়ির কথা বলছে। বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: রিলেশনশিপ কাউন্সেলর অনুপমা বর্মা বলেন, “একে বলে ‘ফিউচার ফেকিং’। কমিটমেন্টের ভয় দেখিয়ে আপনাকে আটকে রাখা। বাস্তবে সেই প্ল্যানের ১০% ও হয় না।” কী করবেন: কথা নয়, কাজ দেখুন। ২ মাসে বিয়ে ঠিক করা আর ২ বছরে বিয়ে ঠিক করা এক নয়।

৪. আপনার সব পছন্দ-অপছন্দে হ্যাঁ বলা আমরা যা ভাবি: আমার সাথে সব বিষয়ে মিলে যাচ্ছে, সোলমেট! বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: এটা ‘মিররিং’ হতে পারে। নিজেকে আপনার মতো করে দেখিয়ে আপনাকে ইম্প্রেস করার কৌশল। নিজস্ব মতামত না থাকা মানুষ পরে গিয়ে বিরক্ত বা প্রতারকও হতে পারেন। কী করবেন: ঝগড়া না হলেও ছোট বিষয়ে মতপার্থক্য আছে কিনা দেখুন। যার নিজস্বতা আছে সে সব বিষয়ে হ্যাঁ বলবে না।

তাহলে আসল গ্রিন ফ্ল্যাগ কী? ড. নম্রতার মতে, “আসল গ্রিন ফ্ল্যাগ হল সম্মান, বাউন্ডারি বোঝা, ধীরে ধীরে ভরসা তৈরি করা আর আপনার ‘না’ কে ‘না’ হিসেবে মেনে নেওয়া।”

সম্পর্কের শুরুতে চোখ-কান খোলা রাখুন। মোহ কেটে গেলে যাতে আফসোস না হয়। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, এটা বোঝাপড়াও।