ডিজিটাল মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, যা থেকে বাঁচতে সচেতনভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

বর্তমান তরুণ প্রজন্মের শরীর-মনে অসীম ক্লান্তি ও মানসিক চাপের প্রধান কারণ ‘ডিজিটাল বার্নআউট’ (Digital Burnout) । অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, নোটিফিকেশনের ভিড়, এবং সব সময় ভার্চুয়াল জগতে যুক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তথ্যের চাপ (Cognitive Overload) পড়ে। এই ক্লান্তি শারীরিক ক্লান্তি নয়, বরং এটি মানসিক ও স্নায়বিক অবসাদ, যা জীবনের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়।

ডিজিটাল বার্নআউটের কারণ ও প্রভাব: বিস্তারিত আলোচনা

* ১. তথ্য ও নোটিফিকেশনের বন্যা (Information Overload): সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল ও খবরের নোটিফিকেশন মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশের বেশি তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক অতিরিক্ত তথ্য প্রসেস করতে গিয়ে মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন।

* ২. FOMO (Fear of Missing Out) বা হারানোর ভয়: সর্বদা আপডেটেড থাকার প্রবণতা বা ভার্চুয়াল বন্ধুদের বিলাসী জীবন দেখে নিজের জীবন নিয়ে হীনম্মন্যতা ও ঈর্ষা মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা বাড়ায়।

* ৩. কাজের ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা মুছে যাওয়া: রিমোট ওয়ার্ক বা অনলাইন পড়াশোনার ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো, যা মস্তিষ্কের ডোপামিন স্তরের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ক্লান্তি তৈরি করে।

* ৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্লান্তি (Decision Fatigue): সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে ক্রমাগত কন্টেন্ট নির্বাচন করা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যাকে ডিশিশন ফ্যাটিগ বলা হয়।

* ৫. ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক সমস্যা: রাত জেগে স্ক্রিন দেখার ফলে ঘুমের সাইকেল নষ্ট হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চোখের সমস্যার কারণ।

এর প্রতিকার কী?

* ডিজিটাল ডিটক্স: দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফোন বা ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিরতি নেওয়া।

* নোটিফিকেশন বন্ধ: কাজের বা পড়াশোনার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

* ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বাস্তব জগতে ফেরা: বই পড়া, হাঁটা, বা শখের কাজ করা যা স্ক্রিন-মুক্ত।