সাজং মানে কলকাতা থেকে ৫ ঘণ্টা দূরে এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। থাকার জন্য আছে বুটিক রিসর্ট, কাঠের হোমস্টে আর ভিউপয়েন্ট রিসর্ট। সবকটাতেই কমন ২টো জিনিস - রুম থেকে হিমালয় আর পাতে গরম সিকিমিজ থুকপা, গুন্ডরুক সুপ।

গ্যাংটক-জুলুক রোডের মাঝে এই ছোট্ট গ্রামটাকে বলে ‘Sikkim’s own Switzerland’। এখানে 5-স্টার লাক্সারি নেই, কিন্তু মেঘ-পাহাড়-আতিথেয়তা মিলিয়ে যা পাবেন, তা টাকায় কেনা যায় না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোথায় থাকবেন? ৩ ধরনের অপশন:

১. ভিউপয়েন্ট রিসর্ট - ফ্যামিলি/কাপলদের জন্য নাম: Damsang Fort Retreat, Neora Valley Resort কেমন: কাচের দেওয়াল, বড় ব্যালকনি। রুমে বসেই সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা + মেঘের সমুদ্র। ইনফিনিটি ভিউপয়েন্ট আছে। ভাড়া: ২৫০০-৪৫০০ টাকা/রাত ডবল বেড খাবার: মাল্টিকুইজিন + লোকাল থালি। সকালে গরম গরম সিকিমিজ মোমো মাস্ট ট্রাই। প্লাস পয়েন্ট: বাচ্চা নিয়ে সেফ, গরম জল 24x7, পার্কিং আছে।

২. কাঠের হোমস্টে - বাজেট + লোকাল এক্সপেরিয়েন্স নাম: Kanchenjunga Homestay, Mountain Breeze Homestay কেমন: স্থানীয় লেপচা/ভুটিয়া পরিবারের বাড়ি। কাঠের ঘর, উঠোনে ফুলের বাগান। দিদির হাতের রান্না। ভাড়া: ১২০০-১৮০০ টাকা/জন প্রতি রাত, খাওয়া-সহ খাবার: ঘি ভাত, গুন্ডরুক-এর তরকারি, সেল রোটি, সুইস-সিকিমিজ ফিউশন প্যানকেক। রাতে বনফায়ার হলে চিকেন বারবিকিউ। প্লাস পয়েন্ট: দাম কম, লোকাল কালচার পাবেন, হোস্টরাই গাইড করে দেবে।

৩. বুটিক ইকো রিসর্ট - প্রাইভেসি চাইলে নাম: Zuluk Greens, Silk Route Retreat কেমন: ৪-৫ টা কটেজ মাত্র। চারপাশে পাইন জঙ্গল। রাতে আকাশ ভরা তারা। নো নেটওয়ার্ক = নো ডিসট্রাকশন। ভাড়া: ৩০০০-৫৫০০ টাকা/রাত খাবার: অর্গানিক সবজি, নিজেদের বাগানের চা। হিমালয়ান ব্রু কফি ফেমাস। প্লাস পয়েন্ট: হানিমুন/ফটোগ্রাফির জন্য বেস্ট।

খাবার: পাতে কী পাবেন? সিকিমিজ: থুকপা, ফাগশাপা, চুরপি, সুমাল। ঝাল কম, পেট ঠান্ডা রাখে। সুইস-সিকিমিজ ফিউশন: আলু-পনির দিয়ে তৈরি রোস্টি, হট চকলেট উইথ লোকাল হানি। ঠান্ডায় জমে যাবে। টিপস: হোমস্টেতে থাকলে দিদিকে আগের দিন বলে রাখুন ‘সেল রোটি’ বানাতে। পাহাড়ে এটা অমৃত।

বুকিং-এর ৩টি টিপস: ১. সিজন: অক্টোবর-নভেম্বর আর মার্চ-মে পিক সিজন। ১ মাস আগে বুক করুন। অফ-সিজনে ৩০% ডিসকাউন্ট পাবেন। ২. রুম সিলেকশন: বুকিং-এর সময় “Kanchenjunga View Room” লিখে দিন। ২০০ টাকা বেশি দিলেও ভিউ-রুম নিন। নাহলে আফসোস হবে। ৩. হিটিং: ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে রুম হিটার/ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট আছে কিনা কনফার্ম করুন। রাতে 0 ডিগ্রি নেমে যায়।

শেষ কথা: সাজং-এ থাকা মানে শুধু ঘুমানো নয়। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, চায়ের কাপ হাতে ব্যালকনিতে দাঁড়ালেই সামনে মেঘ। আর রাতে কাঠের জানলা দিয়ে তারা দেখতে দেখতে ঘুম। এই এক্সপেরিয়েন্সের জন্য হোমস্টে বেস্ট। আর একটু কমফোর্ট চাইলে রিসর্ট।