১ পয়সাও খরচ না করে টব ভরে জবা-গোলাপ ফোটাতে চান? রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া এই সাদা তরলই হয়ে উঠতে পারে আপনার গাছের সেরা সার। জানুন সেই ম্যাজিক ট্রিক।
ছাদ বাগানে শখ করে জবা, গোলাপ, বেলি গাছ লাগিয়েছেন কিন্তু কিছুতেই ফুল আসছে না? বাজার থেকে দামি রাসায়নিক সার, হাড়গুঁড়ো, খোল এনে দিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না? তাহলে আর এক টাকাও খরচ করবেন না। আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে গাছের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সার। আর সেটি হল আমরা রোজ যে চাল ধোয়া সাদা জল ফেলে দিই, সেই জল। বাগান বিশেষজ্ঞরা একে বলেন লিকুইড গোল্ড।
অনেকেই ভাবেন শুধু জল দিয়ে আর কী হবে? কিন্তু আসলে এই সাদা জলটা সাধারণ জল নয়। আমরা যখন চাল ধুই, তখন চালের গায়ে লেগে থাকা প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ, ভিটামিন B, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আরও অনেক মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট জলে মিশে যায়। এই উপাদানগুলি গাছের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও ডালকে সবুজ ও সতেজ রাখে, ফসফরাস শিকড়কে শক্তিশালী করে এবং পটাসিয়াম সরাসরি ফুলের কুঁড়ি আনতে সাহায্য করে। এছাড়া এই জল মাটির ভিতরে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকে এবং গাছ সহজেই খাবার গ্রহণ করতে পারে।
কিন্তু এই জল সরাসরি গাছে ঢেলে দিলেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহারের পদ্ধতি আছে। প্রথমে চাল ধোয়ার সময় প্রথমবারের জলটা ফেলে দিন, কারণ তাতে ধুলো-ময়লা থাকে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বার ধোয়ার সময় যে ঘন সাদা জলটা বেরোবে, সেটা একটা বালতি বা বোতলে জমিয়ে রাখুন। এবার এই জল আপনি দুইভাবে ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ১ ভাগ চাল ধোয়া জলের সঙ্গে ১ ভাগ সাধারণ জল মিশিয়ে পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি ফুল পেতে হলে এই জলটাকে ১ থেকে ২ দিন একটা বোতলে ভরে ছায়ায় রেখে দিন। হালকা টক গন্ধ বেরোলে বুঝবেন এটি ফারমেন্ট হয়ে গেছে এবং এর শক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এই ফারমেন্টেড জলও একইভাবে সাধারণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ব্যবহার করতে হবে।
ব্যবহারের কিছু নিয়ম অবশ্যই মাথায় রাখবেন। এই জল সপ্তাহে ২ বারের বেশি দেবেন না, রোজ দিলে মাটিতে ফাঙ্গাস হতে পারে। সবসময় সকালে বা বিকেলে যখন রোদ কম থাকে তখন গাছের গোড়ার মাটিতে দিন, পাতায় স্প্রে করবেন না। এই সার জবা, গোলাপ, বেলি, জুঁই, টগর, অপরাজিতা, লঙ্কা, বেগুন সব গাছেই দেওয়া যায়। যদি দেখেন এই জল দেওয়ার পর টবে পিঁপড়ে হচ্ছে, তাহলে এর সঙ্গে ৪-৫ ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে দিন, পিঁপড়ে আর আসবে না। নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ দিন ব্যবহার করলেই দেখবেন গাছে নতুন নতুন কুঁড়ি আসতে শুরু করেছে এবং গাছের চেহারাই বদলে গেছে।
