গণেশ চতুর্থীতে গণেশকে তুলসী পাতা দেওয়া এবং চাঁদের দিকে তাকানো দুটোই কেন নিষিদ্ধ জানেন? এর পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক অভিশাপের কাহিনি।

গণেশ চতুর্থী মানেই বাড়িতে বাপ্পার আগমন, মোদক, লাড্ডু এবং ধুমধাম করে পুজো। কিন্তু এই পুজোর দুটি কঠোর নিয়ম আছে যা অনেকেই জানেন না, আর জানলেও কারণটা জানেন না। একটি হল, সিদ্ধিদাতা গণেশকে কখনও তুলসী পাতা দেওয়া যায় না এবং দ্বিতীয়টি হল, গণেশ চতুর্থীর রাতে চাঁদের দিকে তাকানো একেবারে মানা। এই দুটি নিয়ম না মানলে সংসারে অমঙ্গল হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এর পেছনে রয়েছে দুটি আলাদা পৌরাণিক গল্প।

প্রথমে আসি তুলসী পাতার কথায়। প্রায় সব দেবতার পুজোতেই তুলসী পাতা লাগে, কিন্তু গণেশ পুজোয় তুলসী একেবারে নিষিদ্ধ। এর কারণ হল তুলসী দেবীর সঙ্গে জড়িত এক অভিশাপ। কথিত আছে, একবার তুলসী দেবী গঙ্গার তীরে ধ্যান করছিলেন। সেই সময় যুবক গণেশ সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তুলসী গণেশের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু গণেশ তখন আজীবন ব্রহ্মচারী থাকার ব্রত নিয়েছিলেন, তাই তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এতে তুলসী দেবী রেগে গিয়ে গণেশকে অভিশাপ দেন যে, তাঁর ব্রহ্মচর্য ভঙ্গ হবে এবং তাঁর দুটি বিয়ে হবে।

এই কথা শুনে গণেশও রেগে যান এবং পাল্টা তুলসীকে অভিশাপ দেন যে, তিনি কখনও দেবী রূপে পুজো পাবেন না এবং তিনি এক অসুরকে বিয়ে করবেন, যার নাম হবে শঙ্খচূড়। পরে দুজনেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তুলসী ক্ষমা চাইলে গণেশ বলেন, তাঁর অভিশাপ ফলবেই কিন্তু তুলসী গাছ হিসেবে তিনি অত্যন্ত পবিত্র হবেন এবং বিষ্ণুর সবচেয়ে প্রিয় হবেন। কিন্তু গণেশের পুজোয় তিনি কখনও স্থান পাবেন না। সেই থেকেই গণেশকে তুলসী দেওয়া হয় না।

দ্বিতীয় নিয়মটি হল চাঁদ না দেখা। একে বলে মিথ্যা কলঙ্ক বা মিথ্যাচার দোষ। এর পেছনের গল্পটিও বেশ মজার। একবার গণেশ চতুর্থীর দিনে গণেশ অতিরিক্ত মোদক খেয়ে তাঁর বাহন ইঁদুরের পিঠে চড়ে ফিরছিলেন। ইঁদুরটি গণেশের ভার সামলাতে না পেরে হোঁচট খায় এবং গণেশ পড়ে যান। তাঁর পেট ফেটে সব মোদক বেরিয়ে আসে। গণেশ আবার মোদকগুলো পেটে ভরে সাপ দিয়ে পেট বেঁধে নেন। এই পুরো ঘটনাটি আকাশ থেকে দেখছিলেন চন্দ্রদেব। তিনি গণেশের এই অবস্থা দেখে হো হো করে হেসে ওঠেন।

চন্দ্রের এই অহংকারী হাসি দেখে গণেশ ভীষণ রেগে যান। তিনি চন্দ্রকে অভিশাপ দেন যে, আজ থেকে যে কেউ তোমাকে দেখবে, তার ওপর মিথ্যা কলঙ্ক লাগবে, সবাই তাকে চোর ভাববে। চন্দ্রদেব ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলে গণেশ বলেন, বছরের অন্য দিন চাঁদ দেখলে দোষ নেই, কিন্তু ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর দিন, অর্থাৎ গণেশ চতুর্থীর রাতে চাঁদ দেখলে মিথ্যা অপবাদ অবশ্যই লাগবে। সেই কারণেই আজও গণেশ চতুর্থীর রাতে চাঁদ দেখা মানা। ভুল করে দেখে ফেললে শাস্ত্রে বলা হয়েছে, স্যমন্তক মণির কাহিনি শুনলে এই দোষ কেটে যায়।