Commonwealth Games 2026 Medal Tally: চলতি কমনওয়েলথ গেমসে পদক তালিকায় প্রথম দশের মধ্যেই আছে ভারত। এই গেমসে এখনও অনেক ইভেন্ট বাকি। ভারতের সাধারণ ও প্যারা-অ্যাথলিটরা যেভাবে লড়াই করছেন, তাতে পদক সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছে সারা দেশ।
KNOW
Commonwealth Games 2026: ২০ বছরের অপেক্ষার পর কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে ফের পদক জিতল ভারত। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন ৪০ বছর বয়সি শর্মিলা ধনকর (Sharmila Dhankar)। তিনি মহিলাদের শটপট এফ৫৭ ফাইনালে মরসুমের সেরা ৯.৮১ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের প্রথম প্যারা অ্যাথলেটিক্স সোনাজয়ী এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। শর্মিলা সোনা জেতার কিছুক্ষণ পরেই নাটকীয় ঘটনা দেখা যায়। শর্মিলার সতীর্থ শিল্পা কানচুগারাকোপ্পালু শাইলা (Shilpa Kanchugarakoppalu Shyla) ব্রোঞ্জ জিতেছেন বলে ঘোষণা করা হয়। নাইজেরিয়ার (Nigeria) ইউকারিয়া ইয়িয়াজির (Eucharia Iyiazi) একটি থ্রোকে ‘নো-মার্ক’ হিসেবে গণ্য করেন বিচারকরা। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সের একই ইভেন্টে প্রথমবারের মতো ভারত দু'টি পদক জয়ের নজির গড়ল।
কমনওয়েলথ গেমসে শর্মিলার প্রত্যাবর্তন
২০২২ সালে বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে একই ইভেন্টে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন শর্মিলা। চার বছর পর অসমাপ্ত সেই অধ্যায় শেষ করতে ফিরে এসে নিজের কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। তার ৯.৮১ মিটারের থ্রো শুধু সোনাই নিশ্চিত করেনি, ভারতের প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসও নতুন করে লিখেছে। ২০০৬ সালের পর কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে ভারতের ২০ বছরের পদক-খরা ঘুচেছে। পাশাপাশি তিনি এই আসরে ভারতের প্রথম প্যারা-অ্যাথলেটিক্স সোনাজয়ীও হয়েছেন। হরিয়ানার (Haryana) রেওয়ারি জেলার (Rewari district) ছিথরোলি (Chhithroli) গ্রামে জন্ম শর্মিলার। মাত্র দু'বছর বয়সে প্রবল জ্বরের পর তাঁর বাঁ পায়ে পোলিও হয়। যা তাঁর জীবন বদলে দেয়। তবে এরপরও তাঁর লড়াই থামেনি। অল্প বয়সে বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার—সবকিছুই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। পরে পরিবারের সমর্থনে তিনি নতুন করে জীবন শুরু করেন। এখন তিনি স্বামী অজিত সিং এবং তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে রেওয়ারিতেই থাকেন।
শর্মিলার পাশে স্বামী অজিত
২০২০ সালে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে যোগ দেওয়ার জন্য শর্মিলাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তাঁর স্বামী। সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দেয়। কোচ টেক চাঁদের তত্ত্বাবধানে খুব দ্রুতই উন্নতি করতে থাকেন তিনি। মাত্র এক বছরের মধ্যেই জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন এবং পরে শটপাট ও ডিসকাস থ্রো, দুই ইভেন্টেই ভারতের অন্যতম সেরা এফ৫৭ থ্রোয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ফাজ্জা আন্তর্জাতিক প্যারা-অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে গ্লাসগোতে কী করতে চলেছেন, তার আভাস দিয়েছিলেন। সোমবার তিনি প্রমাণ করে দিলেন, বিশ্বের সেরাদের তালিকায় তাঁর স্থান উপরের দিকেই আছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


