IPL 2026: একজন মুম্বইয়ের ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়া, অন্যজন হলেন মুম্বাকে আইপিএল জেতানো রোহিত শর্মা। হার্দিকের মুখে তখন স্পষ্ট বিরক্তি, আর সেই সঙ্গে এক অদ্ভুত রাগ। মাত্র দুটো ছক্কার জন্য ম্যাচটা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা ছিল রোহিতের মুখেও।
IPL 2026: ২০২৫ সালের ৭ই এপ্রিল। যেদিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে মাথা নত করেছিল। যে ম্যাচে গর্জে ওঠেন বিরাট কোহলি (IPL 2026 News)। টিভির পর্দায় কোহলির সেই ছবির সঙ্গে আরও দুটো মুখ ভেসে উঠেছিল (indian premier league 2026)।
একজন মুম্বইয়ের ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়া, অন্যজন হলেন মুম্বাকে আইপিএল জেতানো রোহিত শর্মা। হার্দিকের মুখে তখন স্পষ্ট বিরক্তি, আর সেই সঙ্গে এক অদ্ভুত রাগ। মাত্র দুটো ছক্কার জন্য ম্যাচটা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা ছিল রোহিতের মুখেও। কোহলির সেই সেলিব্রেশনের জ্বালাটা হার্দিকের মনে নিশ্চিতভাবেই থাকবে। কারণ, দুজনেই মাঠে একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েন না।
হাইভোল্টেজ বেঙ্গালুরু বনাম মুম্বই
এবার সেই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছে। রবিবার, মুম্বইয়ের মাঠে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে পুরনো হিসাব মেটানোর একটা বড় লক্ষ্য থাকবে ব্লু অ্যান্ড গোল্ড জার্সি পরা প্রত্যেক ক্রিকেটারের মনের মধ্যে। কোহলি নিজে যেমন বলেন, 'মারতে জানলে, মার খাওয়ার জন্যও তৈরি থাকতে হয়'। এবার মুম্বই যখন নিজেদের মাঠে বদলা নিতে নামবে, তখন কি রজত পাতিদার ও তার দল সেটাকে আটকাতে পারবে?
প্রথমত, এই সিজনে দুই দলেরই ব্যাটিং লাইনআপ খুব শক্তিশালী, যা প্রায় নয় নম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচটার কথাই ধরা যাক। ৯৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়েও বেঙ্গালুরু তাদের ইনিংস শেষ করে ২০১ রানে ৮ উইকেটে। নয় নম্বরে ইয়াত করতে নামেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ভেঙ্কটেশ আইয়ার।
এবারের টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স মানেই আগ্রাসী ক্রিকেট। বিরাট কোহলি ব্যাটে যে ঝড় তোলেন, তাতেই তিনটি ম্যাচে দল ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দিয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্কোর ২৫০ ছুঁয়ে ফেলে এবং হায়দরাবাদের দেওয়া ২০২ রানের টার্গেট মাত্র ৯৪ বলেই পার করে ফেলে তারা।
অপরদিকে, মুম্বইয়ের অবস্থাও খুব একটা আলাদা নয়। কলকাতাকে কীভাবে মুম্বই হারিয়েছে, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার। দিল্লি এবং রাজস্থানের কাছে হারলেও মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে এমন কোনও নাম নেই, যাকে হালকাভাবে নেওয়া যায়।
সাতজন হার্ড-হিটার এবং দুজন অলরাউন্ডার নিয়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী রয়েছে। রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে যা শেষ হয়েছে দীপক চাহারে গিয়ে। বেঙ্গালুরুর মতো বিধ্বংসী ব্যাটিং মুম্বইয়ের আছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, তারা যে খুব পিছিয়ে নেই, সেটাও কিন্তু বলতেই হবে।
বদলা নিতে পারবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স?
বিশেষ করে, রোহিতের নতুন ভার্সন বেশ আশা জাগাচ্ছে। তবে সূর্যকুমার যাদব এবং তিলক ভার্মাকে নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে। রানের ফোয়ারা ছোটা ওয়াংখেড়েতে কে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, এই প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত যশপ্রীত বুমরা। উল্লেখ্য, বুমরা-বোল্ট জুটি, চাহারের সুইং এবং স্যান্টনারের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার উপরই হার্দিক ভরসা রাখবেন। বুমরা এবং বোল্টের ওভারগুলিই বেঙ্গালুরুর জয়ের সম্ভাবনা ঠিক করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর কাছেও এই নামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো বোলাররা রয়েছেন। জশ হ্যাজেলউডের ফেরাটাই দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। সঙ্গে আছেন ভুবনেশ্বর কুমারও। কিন্তু এই দুজনের পর পাতিদারের হাতে ক্রুনাল পান্ডিয়া ছাড়া আর বিশেষ কেউ নেই। ব্যাটিংয়ে বেঙ্গালুরু এগিয়ে থাকলেও, বোলিংয়ে মুম্বাইয়ের পাল্লা ভারী। তাই ওয়াংখেড়েতে এই সিজনের অন্যতম সেরা একটা ম্যাচ দেখার জন্য সবাই তৈরি থাকতেই পারেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


