IPL 2027: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে তৈরি হওয়া যাবতীয় ঝামেলা মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিল ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ। হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক ও খারাপ পারফরম্যান্সের পর, অবশেষে পুরোনো অধিনায়ক রোহিত শর্মার হাতেই দায়িত্ব ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

IPL 2027: টানা তিনটি মরশুমের টানাপোড়েন শেষে, ভুল শুধরে নিতে চলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স টিম ম্যানেজমেন্ট। যে তারকা মুম্বইকে পাঁচটি ট্রফি এনে দিয়েছেন এবং যার হাত ধরে ট্রফি জয়ের ইতিহাস তৈরি হয়েছে তথা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যিনি নায়ক—সেই রোহিত শর্মাকেই আবার অধিনায়কের আসনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত কতটা ঠিক বা ভুল, সেটা সময় বলবে (IPL 2027)। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ড্রেসিংরুমের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিবাদ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় মুম্বই। হার্দিক পান্ডিয়ার অধীনে দলের পারফরম্যান্স এতটাই খারাপ ছিল যে, ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে ম্যানেজমেন্ট—সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। মাঠের বাইরে ঠিক কী ঘটছিল আর কীভাবে থামল এই অধিনায়কত্বের নাটক?

আবার সেই ‘হিটম্যান’! মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়কত্বে ফিরছেন রোহিত শর্মা, বিরাট খবর

গুজরাট থেকে মুম্বইয়ে ফিরে হার্দিকের অধিনায়কত্ব দাবি করার গল্পটা সবারই জানা। কিন্তু গোলমাল বাঁধল ২০২৬ সালের মরশুমে। কাগজে-কলমে সেবার আইপিএলের অন্যতম সেরা ও শক্তিশালী দল গড়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম একাদশের বাইরেও একাধিক তারকা প্লেয়ার তৈরি ছিলেন। তবুও মাত্র চারটি ম্যাচে জয় পায় তারা, আর পয়েন্ট টেবিলের ৯ নম্বরে থেকে মরশুম শেষ করতে হয়। এমনকি, ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে দলের মালিক আকাশ অম্বানিকে চরম বিরক্ত হয়ে গ্যালারি ছেড়ে উঠে যেতে দেখা যায়। মরশুমের মাঝামাঝি আবার হার্দিক চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেও যান। এসব ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়, দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ মোটেও স্বাভাবিক ছিল না।

ঠিক এই জায়গা থেকেই পদক্ষেপ করা শুরু করে ম্যানেজমেন্ট। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, হার্দিককে আর বেশিদিন অধিনায়ক রাখা হবে না। মরশুমের মাঝপথেই রোহিতকে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, কিন্তু তা সফল হয়নি। সাময়িকভাবে সূর্যকুমার যাদব ও পরে জাসপ্রীত বুমরাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে হয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, ২০২৭ মরশুমে নতুন মুখ দেখা যাবে। সূর্যকুমার, বুমরা বা তরুণ তিলক ভার্মার মতো বিকল্প হাত বাড়ালেই মিলত। তা সত্ত্বেও মুম্বইয়ের পছন্দ ছিলেন সেই রোহিতই। রোহিত অবশ্য নিজের বদলে তিলক ভার্মার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট শেষ পর্যন্ত হিটম্যানকেই রাজি করায়। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের দল রওনা হওয়ার আগেই চূড়ান্ত হয় এই সিদ্ধান্ত।

শুধু তাই নয়, রোহিতের পরামর্শে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং স্টাফেও বড়সড় রদবদল ঘটানো হয়েছে। নতুন সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে আসছেন—প্রধান শিক্ষক বা হেড কোচ কাইরন পোলার্ড, বোলিং কোচ মিচেল ম্যাকক্লেনাগান, ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ, ব্যাটিং কোচ রবিন উথাপ্পা এবং ডেভেলপমেন্টাল বোলিং কোচ ধবল কুলকার্নি। উথাপ্পা ও দিলীপ ছাড়া বাকি সবাই আগে রোহিতের নেতৃত্বেই মুম্বইয়ে খেলেছেন। রবিন উথাপ্পার সঙ্গে আবার রোহিতের বন্ধুত্ব ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের দিনগুলো থেকে। অন্যদিকে, টি দিলীপ ২০২৩ একদিনের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন। রোহিতের অনুরোধেই বিসিসিআই তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিল। ফলে, বলা যেতে পারে, পুরোপুরি নিজের পছন্দের কোচিং টিম গুছিয়ে নিয়েছেন রোহিত।

২০২৮ সালে বসবে মেগা নিলামের আসর

হার্দিককে হঠাৎ অধিনায়ক করার পর, সূর্যকুমার ও বুমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রোহিত ব্যাটন হাতে নিলে তাদের মধ্যে সেই ক্ষোভ থাকার কথা নয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে হার্দিক পান্ডিয়া কী করবেন? তাঁর ট্রেডিং নিয়ে বাজারে বহু জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মুম্বইয়ের লাভ হয় এমন কোনো প্রস্তাব না এলে ট্রেড সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে হার্দিককে এই দলেই থাকতে হবে। মুম্বইয়ে আসার সময় হার্দিকের একটাই শর্ত ছিল—অধিনায়কত্ব। সেই পদ না থাকলে তিনি কি খেলবেন? সূত্রের খবর, অন্য দলে ট্রেড না হলে রোহিতের অধীনে খেলতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন হার্দিক।

২০২৭ মরশুমে রোহিত মুম্বইকে নেতৃত্ব দেবেন। আর ২০২৮ সালে বসবে মেগা নিলামের আসর, যেখানে দল নতুন করে তৈরি করার সুযোগ থাকবে। ততদিনে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে কাউকেও গড়ে তোলা যাবে। তিলক ভার্মা সেই দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন নাকি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবে মুম্বই, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।