The Ashes Series: টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাচীন ও আকর্ষণীয় সিরিজ অ্যাশেজ। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের (Australia vs England) টেস্ট সিরিজ এবার ভারতের মাটিতে আয়োজন করা হতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (Cricket Australia)। এই সিরিজ হলে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে নতুন আকর্ষণ হবে।
KNOW
Australia vs England Test Series: ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে অ্যাশেজ (The Ashes) আয়োজন করা হতে পারে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) চিফ এগজিকিউটিভ টড গ্রিনবার্গ (Todd Greenberg) জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচ ভারতে আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা আলোচনা করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথগুলোকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে নিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে। ১৮৮২ সালে শুরু হওয়া অ্যাশেজ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ঐতিহ্যগতভাবে এই সিরিজটি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪-১ ব্যবধানে জিতে অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করেছে। পরবর্তী অ্যাশেজ সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডে। এর আগে, ২০২৭ সালের মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) প্রথম টেস্ট ম্যাচের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড একটি আলাদা দিন-রাতের টেস্ট খেলবে। তবে এই ম্যাচটি অ্যাশেজ সিরিজের অংশ হবে না।
ভবিষ্যতে ভারতে অ্যাশেজের সম্ভাবনা
ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচগুলি আয়োজন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গ্রিনবার্গ বলেন, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের একটি প্রদর্শনী টেস্ট ভারতে আয়োজনের সম্ভাবনাকে তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চলতি বছরের শেষ দিকে চেন্নাইয়ে মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কর্চার্সের মধ্যে একটি বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিদেশে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে তাদের নতুন চিন্তারই ইঙ্গিত দেয়। বিবিসি-র স্টাম্পড পডকাস্টে গ্রিনবার্গ বলেন, ‘সব ধরনের সম্ভাবনাই আমাদের খোলা মনে বিবেচনা করতে হবে। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (England and Wales Cricket Board) এবং বিসিসিআই-এর (BCCI) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। ভারতে আরও বেশি ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে এমন কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অবশ্যই উন্মুক্ত।’
আর্থিক কারণেই ভারতে অ্যাশেজ আয়োজনের ভাবনা
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের বাজার যে আর্থিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইসিবি জানায়, ভারতের সাম্প্রতিক সাদা বলের ইংল্যান্ড সফরের কারণে তাদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। অন্যদিকে, ২০২৭ সালে পুরুষ ও মহিলা, দুই অ্যাশেজ সিরিজই আয়োজন করলেও সেই বছরে তুলনামূলক কম আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে ইসিবি। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সূচিতে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক সফরগুলির ওপরই আর্থিক আয় অনেকাংশে নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ অন্য কোনও দেশে আয়োজন করতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, ইসিবি এবং বিসিসিআই, তিন বোর্ডেরই অনুমোদন লাগবে। গ্রিনবার্গের বিশ্বাস, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এই সময়ে এমন উদ্যোগ টেস্ট ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। আইপিএল-এর (IPL) মতো টুর্নামেন্ট বিশ্বজুড়ে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। তাই ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ম্যাচগুলিকে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া ইতিবাচক হতে পারে বলেই তাঁর মত। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, ইতিমধ্যেই ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যে আরেকটি বড় ম্যাচের জন্য জায়গা বের করা সহজ হবে না।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


