গ্রাম্য বিবাদে মাথা গলিয়েছিল তৃমমূল কংগ্রেস। আর তাতেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রানীনগর। এলোপাথারি গুলি, বোমাবাজির শিকার এক যুবক ও মহিলা। শাসক দলের দিকেই আঙুল তুলেছেন কংগ্রেস বিধায়িকা।

গ্রাম্য বিবাদে লাগল রাজনীতির রঙ। আর তাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ জেলার রানীনগর এলাকা। মঙ্গলবার রাতে চলল এলোপাথারি গুলি, চলল বোমাবাজি। আর, তার শিকার হলেন এক বছর ২৩-এর টাটকা যুবক ও এক মহিলা। এই ঘটনার পিছনে শাসক দলের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঘটনার সূত্রপাত নেহাতই এক গ্রামীণ বিবাদ থেকে। জানা গিয়েছে রানীনগরের বাঁশগাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই পিয়ারুল শেখ এবং জাহাঙ্গীর শেখের মধ্যে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা চলছিল। এর আগে এই নিয়ে দুই পরিবারের তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাতি হয়েছে। দুই পরিবারেরই বেশ কয়েকজন সদস্য সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। অভিযোগ, এরপরই এই গ্রামীন বিবাদে মাথা গলিয়েছিল শাসক দল তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। তাতেই মিটমাট হওয়া দূর অস্ত, ঝামেলা আরও বাড়ে।

"

মঙ্গলবার, শাসক দলের একাংশের নেতার প্রত্যক্ষ মদতে পিয়ারুলের জমিতে গবাদি পশু ঢুকিয়ে দিয়ে তার ফসল নষ্ট করে দেয় জাহাঙ্গীর, এমনটাই জানা গিয়েছে। আর এর থেকেই জাহাঙ্গীর ও পিয়ারুলের দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাদানুবাদ চরমে ওঠে। অবশ্য সাময়িকভাবে তা মিটেও গিয়েছিল। কিন্তু, রাত বাড়তেই জাহাঙ্গীর দলবল নিয়ে পিয়ারুলের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িটি ঘিরে ফেলে শুরু হয় এলোপাথাড়ি বোমাবাজি, গুলিচালনা।

বোমার আঘাতে পিয়ারুল ছেলে সুজন শেখের (২৩)-এর ডানহাত উড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, সুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে ছুটে এসেছিলেন তাঁর কাকিমা মলিনা বিবি (৪০)। এলোপাথাড়ি গুলি, বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনিও লুটিয়ে পড়েন তারও ঘটনাস্থলে ছিন্নভিন্ন হয়ে মৃত্যু হয়।

গুলি-বোমায় ঝাঁঝড়া সুজন শেখ ও তাঁর কাকিমা

এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনায় মৃতের পরিবারের তরফে জাহাঙ্গীর-সহ তিনজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, গ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। পিয়ারুলের পরিবারের দাবি, শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের মদতেই জাহাঙ্গীর এই কাজ করেছে। তাই অভিযুক্ত তিনজনের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাদেরও কঠোর সাজার দাবি করেছেন তারা। অভিযুক্তদের খোঁজে রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ,, তবে এখনও তারা অধরাই।

আরও পড়ুন - বঙ্গের কোন কোন কেন্দ্রে সহজে জিতবে বিজেপি, কোথায় লড়াই কঠিন - কী বলছে দলের গোপন বিশ্লেষণ

আরও পড়ুন - বাদ 'জয় শ্রীরাম', ভরসা নিজের কাজ - শুভেন্দুর থেকেও কঠিন পরীক্ষায় এবার রাজীব, দেখুন

আরও পড়ুন - হাজার টাকার কুপন বিলি, BJP-র বিরুদ্ধে ভোট কেনার গুরুতর অভিযোগ করল TMC

ওই যুবক ও মহিলা ছাড়াও পিয়ারুলের পরিবারের বহু সদস্যই গুলি ও বোমার আঘাতে জখম হয়েছেন। রানীনগর গোধনপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাদের। ঘটনার কথা জানতে পেরে রাতেই হাসপাতালে এসেছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়িকা ফিরোজা বেগম। পিয়ারুলের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেস বিধায়িকা বলেন, 'রানীনগর এলাকা যেন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে খবর আছে, বাইরে থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা এলাকায় মজুত করা শুরু করেছে। শাসকদল সবকিছু জেনেও নিশ্চুপ। উল্টে তারাই প্রচ্ছন্ন মদত দিচ্ছে ঘটনায়।'

YouTube video player