'নেকুপুষুমুনু আমার',  খোঁচা দিলেন অভিনেত্রী সোনালিকে নিশানা করলেন শ্রীলেখা মিত্র  খোঁচার স্ট্য়াটাসে হেসে কুটিপাটি নেটিজেনরাও   'তৃণমূলকে শেষ করতে চাইতো', বিস্ফোরক কুণাল 


'ভূল সিদ্ধান্তে অন্য দলে গিয়েছিলাম- ক্ষমা করে দিন। দিদি আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচবো না-আপনার আঁচলের তলে টেনে নিন', তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মমতার কাছে এমনই খোলা চিঠি লিখেছিলেন সোনালি গুহ। আর এবার একুশের ভোটে তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া সোনালিকে নিশানা করলেন শ্রীলেখা মিত্র।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred


সোনালি গুহের খোলা চিঠির টুইট পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই খোঁচা দিলেন অভিনেত্রী তথা বাম সমর্থক শ্রীলেখা মিত্র। তিনি সোনালি গুহের কোলা চিঠির একটি স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করে শ্রীলেখা লিখেছেন 'নেকুপুষুমুনু আমার।' প্রসঙ্গত, শনিবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মমতার কাছে সোনালি গুহ লিখেছিলেন,'আমার প্রণাম নেবেন। আমি সোনালি গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়েছিলাম। যেটা ছিল আমার চরম ভূল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। দিদি মাছ যেমন জল ছাঁড়া থাকতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচবো না। আপনার আঁচলের তলে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে বাঁচার সুযোগ করে দিন।' এদিকে শ্রীলেখার এহেন খোঁচার স্ট্য়াটাসে হেসে কুটিপাটি নেটিজেনরাও। এক নেটনাগরিক সোনালিকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, ভাজা মাছ উলতে খেতে জানে না। আহা রে।' 

আৎও পড়ুন, 'ভুল সিদ্ধান্তে অন্য দলে গিয়েছিলাম- ক্ষমা করে দিন', দলে ফিরতে চেয়ে মমতাকে চিঠি সোনালির

 একুশের নির্বাচন যে বাংলার বুকে ফেলে আসা বাকি নির্বাচন গুলি থেকে অনেকটাই আলাদা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। এবছর একের পর এক হেভিওয়েট দল ছাড়ার পর ভগ্ন হৃদয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ততদিনে দল ছেড়েছেন তৃণমূলের অন্যতম সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজীব বন্দ্য়োপাধ্যায়। এরপর যখন বোটের প্রার্থী লিস্ট প্রকাশ্যে আনলেন মমতা, তখন বরাবরের চলে আসা সদস্য এতদিন যারা প্রার্থী তালিকায় প্রথম সারিতে ছিলেন, তাঁদের নাম উধাও হয়ে যায়। জেলা-শহরে একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মী লিস্টে জায়গা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছেড়ে বিজেপিতে যান। এমনকি হুমকি ভাঙচুরও চলতে থাকে। এবং প্রার্থী তালিকায় নাম না ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই আর ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি সোনালি গুহও। দল ছাড়েন তিনিও। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ডবল ইঞ্জিনকে পিছনে ফেলে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার। এহেন পরিস্থিতি রাজ্য-রাজনীতিতে বেশ বড়সড় প্রভাব পড়ে।

আরও পড়ুন, 'তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন', করোনায় প্রয়াত নলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক

অপরদিকে খোলা চিঠি মমতাকে লেখার পর তৃণমূলের মুখপাত্র ঘোষ বলেছেন, 'দলের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করব না। তবে তৃণমূলের ক্ষতি করার জন্য কেন প্রতিপক্ষ বিজেপিতে গেলেন সোনালিদি প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তিনি আরও বলেছেন, আজ যদি তৃণমূলের ফল খারাপ হতো, তাহলে এরাই সর্বশক্তি দিয়ে তৃণমূলকে শেষ করতে চাইতো।' যদিও চিঠি প্রকাশ্যে এনে পরে সোনালি গুহ আরও বলেছেন, বিজেপিতে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ বোধ করিনি। তাই তৃণমূলে ফিরতে চাই। টুইট দেখে ওরা কী সিদ্ধান্ত নেন দেখি, তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। আরও অনেকেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরবেন' বলে জানিয়েছেন সোনালি।