বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বড় দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন যে, এই বিধায়ক ও সাংসদরা তৃণমূলের প্রতি অসন্তুষ্ট। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নেতৃত্বের অনুমোদন পেলেই দলবদল করতে প্রস্তুত।  

বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এখন নিজেদের দলের সাংসদ ও বিধায়কদের অসন্তোষের সম্মুখীন হচ্ছে। সম্প্রতি, বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ৬ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। এবার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বড় দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন যে, এই বিধায়ক ও সাংসদরা তৃণমূলের প্রতি অসন্তুষ্ট। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নেতৃত্বের অনুমোদন পেলেই দলবদল করতে প্রস্তুত। সৌমিত্র বলেছেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি কথা দেয়, তাহলে তৃণমূল নামে কোনও দলই থাকবে না। সবাই বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পাপী

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাপী আখ্যা দিয়েছেন সৌমিত্র এবং বলেছেন যে পাপীদের জেলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আজ তাঁর বাড়ির সামনে একটি বুলডোজার দাঁড়িয়ে আছে। ২০২১ সালে তিনি বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছিলেন। সৌমিত্র খাঁ বলেন, পাপীদের অবিলম্বে তার ফল ভোগ করতে হবে। তাদের জাহান্নামে যাওয়া উচিত।

পরাজয়ের পর তৃণমূল যখন তার নিজের নেতাদের অসন্তোষের সঙ্গে লড়াই করছে, ঠিক তখনই সৌমিত্র খাঁয়ের এই দাবি সামনে এল। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে তৃণমূল সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় সরকার কাকলিকে 'ওয়াই' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয়। কাকলি প্রায় আধ ডজন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

সৌমিত্র খাঁয়ের দাবি খারিজ করেছে তৃণমূল। দলের সাংসদ সৌগত রায় এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "সৌমিত্র খাঁ এবং বিজেপি মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এমন কিছুই হতে যাচ্ছে না।"

উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি লোকসভা আসন রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১২টি এবং টিএমসি ২৯টি আসন জিতেছিল। কংগ্রেসও একটি আসন পেয়েছিল। এখন, সৌমিত্র খাঁ ২০ জন সাংসদ দলবদল করতে প্রস্তুত বলে দাবি করে টিএমসির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। অযোগ্য ঘোষিত হওয়া এড়াতে দলবদলকারী সাংসদের সংখ্যা কমপক্ষে ২০ হতেই হবে।