তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর এবার হামলার মুখে পড়লেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। বিধায়কের অভিযোগ, গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এমনকী গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিয়েছ দুষ্কৃতীরা। 

আরও পড়ুন :চা চক্রে 'আক্রান্ত' দিলীপ, দমকল মন্ত্রী বললেন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ

আরও পড়ুন :'পলিটিক্য়াল টুরিজম' করছেন, দেবশ্রী নিয়ে আপত্তিতে অনড় শোভন

আশঙ্কাই সত্য়ি হল। হামলার মুখে পড়লেন সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। অভিযোগ, শুক্রবার সকালে তাঁর গাড়িতে হামলা চালায় কিছু লোকজন। বিধানসভা যাওয়ার পথেই তাঁর ওপর হামলা হয়। হঠাৎই তাঁর গাড়ি আটকে চড়াও হন কিছু লোকজন। হামলাকারীদের মধ্যে একজন গাড়িতে ইট ছোড়ে। পরে গাড়ি থামালে তাঁকে নামিয়ে আনার চেষ্টা হয়। এরপরই হামলাকারীরা তাঁকে মারতে থাকে। হামলায় মাথা,বুকে ও হাতে চোট পেয়েছেন তিনি। বনগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।বিধায়ক জানান, কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকার তাঁর নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন সূত্র মারফত তাঁর কাছে খবর আসছিল,তাঁর ওপর হামলা হতে পারে। 

এদিনের ঘটনা সেই আশঙ্কাই প্রমাণ করল। ঘটনার পরই বনগাঁ থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক। সম্প্রতি তাঁর দলের নেতা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মেচেদায় বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুলিশ বা তৃণমূলকর্মীদের হাতে মার খাবেন না। অন্যায় দেখলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। পুলিশ দলদাস হয়ে কাজ করলে পুলিশকেও রেয়াত করবেন না। তৃণমূল মারলে আপনারা যদি পাল্টা মারতে না পারেন, তাহলে বুঝব আপনারা বিজেপি করার যোগ্য় নন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার দায় তৃণমূলের ওপর চাপিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া ব্রিগেডের অভিযোগ,বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে বিধায়কের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তবে এভাবে পরিকল্পিতভাবে যে হামলা হবে, তা ভাবতে পারেননি কেউ।

আরও পড়ুন :দ্বিতীয় সোমবারই বন্ধ সরকারি অফিস, ডিএ দিতে না পেরে ছুটিতে কল্পতরু মমতা

আরও পড়ুন :আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ, কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই হামলা চালাল ২৫০ তৃণমূল-কর্মী

ঘটনাক্রমে এদিনই লেকটাউনে চা-এ-পে চর্চার সময় তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপির ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণদাড়ির তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া মাইতির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনিই তৃণমূলের অন্যান্য় কাউন্সিলরদের নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গো ব্য়াক স্লোগান তোলেন। পরে বিজেপি-তৃণমূল কর্মীদের হাতাহাতিতে আহত হন বেশ কয়েকজন। যদিও এ বিষয়ে দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস বলেন,এই ঘটনা বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ।