CBI On RG Kar Case: শাসকের পালা বদল হতেই আরজি কর কাণ্ডে তদন্তে গতি। নতুন করে আতশ কাঁচের নীচে হাসপাতালের নার্স সহ একাধিক কর্তা ব্যক্তি। তারা কারা? কোন তদন্তের রহস্যে সমাধানে সিবিআই? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…
CBI On RG Kar Case: অভয়াকাণ্ডের দুইবছর পূর্তিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবারই জানিয়েছিলেন যে, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। কেউ ছাড়া পাবে না। পুনরায় সবদিক খতিয়ে দেখে শুরু হবে আরজি কর হাসপাতালে জুনিয়র তরুণী চিকিৎসকের খ ধর্ষণ খুনের মামলা। এবার সেই মামলায় আরও সক্রিয় হলো সিবিআই (CBI)। সেদিন (২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট) ঘটনাস্থলে থাকা এক নার্সের ফোনের কল লিস্টও খতিয়ে দেখবে সিবিআই। সূত্রের খবর, প্রায় দু-বছর পর এক নার্সের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই সেই ফোন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
সিবিআই আতশ কাঁচের তলায় নার্সের ফোন!
সূত্রের খবর, ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য নার্সের ফোন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সিবিআই সেদিনের ঘটনায় নার্সের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে চাইছে। কার নির্দেশে সেদিন নির্যাতিতার বাড়িতে ফোন করেছিলেন ওই নার্স। কতক্ষণ কথা হয়েছে। তাকে ফোন করার নির্দেশ কে দিয়েছেন এবং কী কী বলা হয়েছে তা সবই পুনঃরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সিবিআই। দন্তকারীদের অনুমান, ওই নার্সের মোবাইল ফোনে থাকা কলের তথ্য থেকে ঘটনার পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ঘটনার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ের কল রেকর্ড, কোন নম্বরে ফোন করা হয়েছিল, কতক্ষণ কথা হয়েছিল এবং কার কাছ থেকে ফোন এসেছিল—এই সমস্ত তথ্য পরীক্ষা করে দেখবেন তদন্তকারীরা।
কার নির্দেশে পরিবারকে ফোন ? সেটাই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, কোনও আধিকারিকের নির্দেশেই কি ওই নার্স নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন ? নাকি সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই তিনি পরিবারকে ফোন করেছিলেন ? পরিবারকে ঠিক কী বলা হয়েছিল ? ফোন করার আগে নার্সের সঙ্গে কারও কথা হয়েছিল কি না এবং তারপর তিনি আর কারও সঙ্গে কি যোগাযোগ করেছিলেন ? এই বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে।
উল্লেখ্য,
আরজি কর কাণ্ড:-
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আর জি কর হাসপাতালের চত্বর থেকে ওই পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারের দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় এবং চিকিৎসক মহল দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবাদ জানায়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে পরে সিবিআই এই মামলার তদন্তভার নেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে শিয়ালদহ আদালত এই ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সঞ্জয় রায় নামে এক প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেয়। এই ঘটনার পিছনে আরও বড় ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
দু'বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে এখনও বিতর্ক চলছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


