বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে বাড়ির কাছেই খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর পিছনে পেশাদার শ্যুটাররা থাকতে পারে।
ভোট পরবর্তী হিংসার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও বড় ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাতে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ দিয়ে খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। মধ্যমগ্রামে বাড়ি যাওয়ার পথে, বাড়ির ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত হলে ঘোষণা করে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, হামলার সময় অন্তত ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পর পর ৩টি গুলি করা হয়েছিল। বুকের বাঁ দিকে ২টি গুলি লাগে ও পেটে লাগে একটি। গুলি একেবারে হার্ট ফুটো করে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
হামলাকারীরা হেলমেট পরে ছিল। তাদের গাড়িতে নম্বরপ্লেট ছিল না। এই হামলায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুসারে, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লক ৪৭ এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছিল। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, এমন ধরনের অস্ত্র সাধারণ অপরাধীরা ব্যবহার করে না। তাই পেশাদার শ্যুটাররা এই কাজ করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। বর্তমানে চলছে ঘটনার তদন্ত। ইতিমধ্যে সামনে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ।
গত কয়েক দিন ধরে রীতিমতো রেইকি করে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে হাসপাতালের বাইরে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি বিধায়কের দাবি, এই খুন পরিকল্পিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ''পুলিশ জানিয়েছে বেশকিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।'' তিনি আরও বলেন, ''১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা, বরাহনগরে ছুরি ও বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।''


