Humayun Kabir: বেলডাঙা আর রেজিনগরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ স্থলে পৌঁছে যান হুমায়ুন কবীর। সেখানে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলেও তাঁর সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের দেখান। আর তারপরই রাজ্যের শাসক আর বিরোধী দলকে রীতিমত ধুয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।
প্রথম দফা ভোটের দিনই রণক্ষেত্রের আকার নিল নওদা। হুমায়ুন কবীর আর তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধা তৃণমূলের। ধস্তাধস্তি, মারামারি হয়। ভাঙচুরও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাসের সেল হাতে নিয়ে ছুটে আসতে হয়। কিন্তু এই উত্তেজনার মধ্যেই। বাবরি মসজিদের নির্মাণস্থলে পৌঁছে যান হুমায়ুন কবীর। সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অমিত শাহকে রীতিমত ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন হুমায়ুন।
বেলডাঙা আর রেজিনগরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ স্থলে পৌঁছে যান হুমায়ুন কবীর। সেখানে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলেও তাঁর সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের দেখান। আর তারপরই রাজ্যের শাসক আর বিরোধী দলকে রীতিমত ধুয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুন কবীর বলেন, 'অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে জবাব দেবার জন্য আপনারা দিনভর রয়েছে। সরেজমিনে সব দেখছেন কী ঘটেছে। জবাব একটাই। ওরা আমাকে ভয় পেয়েছে।' তবে এখানেই শেষ নয়। হুমায়ুন আরও বলেন, 'অমিত শাহ ও বিজেপি ও তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ভয় পেয়েছেন। কিছু দিন আগে এক বক্তৃতায় বলেছেন, হিম্মত থাকলে অযোধ্যায় গিয়ে বাবরি মসজিদ বানিয়ে দেখা! এটা হুমায়ুনের নিজস্ব মাটি। মুর্শিদাবাদ। ক্ষমতা থাকলে মমতা বন্দোপাধ্যায় আগামী দিনে.... ক্ষমতায় আসবেনই না। ওকে বৃন্দাবনে... দিঘায় পাঠাবো'
হুমায়ুন তারপরই অমিত শাহকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, 'অমিত শাহকে ভালো করে জানিয়ে দিন। খবরটা দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেও। বাবরি মসজিদের কাজ চলছে।'
ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বেছে বেছে তাঁর দলের সমর্থকদের নিশানা করছে। তিনি অ্যাডিশনাল এসপি মাজিদ খানকে "তৃণমূলের দালাল" বলে উল্লেখ করে তাঁর সাসপেনশনের দাবি জানান। তিনি বলেন, "জনগণই তৃণমূলকে জবাব দেবে। ২০২৬ সালের ৪ মে তৃণমূলের গুন্ডাগিরি শেষ হবে। আমার উপর হঠাৎ হামলা করা হয়। আমার লোকেরা যখন ব্যবস্থা নিতে জড়ো হয়, তখন পুলিশ তাদের উপর লাঠি চালায়। অ্যাডিশনাল এসপি মাজিদ খানকে সাসপেন্ড করা উচিত। উনিই আসল অপরাধী এবং তৃণমূলের দালাল।" অন্যদিকে, নওদার তৃণমূল ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবীর ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। তিনি "সমাজবিরোধী" এবং "FIR হওয়া অপরাধীদের" নিয়ে এসে পোলিং এজেন্টদের "ছিনিয়ে" নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং "গুন্ডামি" করছেন। সফিউজ্জামান বলেন, "হুমায়ুন কবীর এখানে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছেন। ভোটের দিন তিনি ১৫টা গাড়ি নিয়ে সমাজবিরোধী আর দাগী আসামিদের নিয়ে এসেছেন। উনি আমাদের পোলিং এজেন্টদের তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে এসেছেন। হুমায়ুন এখানে ব্যাপক গুন্ডামি করছেন। আমরা প্রতিবাদ করেছি, অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ প্রশাসনের তরফে কোনও সন্তোষজনক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।" তিনি আরও যোগ করেন, "কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি। আমরা ওঁকে নওদায় অবাধে ঘুরতে দিতে পারি না। এটা ওঁর প্রতি আমাদের খোলা হুমকি যে উনি যেন নওদায় ঘোরাঘুরি না করেন। হুমায়ুন যদি ঘোরেন, আমরা ওঁকে আটকাব, পথ আটকে দেব।"
তৃণমূলের থেকে আলাদা হওয়ার পর এই বাবরি মসজিদই রাতারাতি হুমায়ুনকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কে হুমায়ুন ভাগ বসাতে পারেন, এমন তত্ত্ব যেমন শোনা যায়। তেমন তাঁকে আড়াল থেকে বিজেপি সাহায্য় করছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কিন্তু সব কিছু বদলে যায় কয়েক সপ্তাহ আগে, তৃণমূলের তরফে একটি স্টিং ভিডিও প্রকাশ করা হলে। যদিও ভিডিও সঠিক নয় বলেও দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর।


